নেতিবাচকতার দেয়ালে পিঠ, ‘থ্রি ডি’ অপবাদের আক্ষেপ নিয়েই ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বিজয় শঙ্কর

২০১৯ বিশ্বকাপের সেই বহুল চর্চিত ‘থ্রি ডি’ ক্রিকেটার বিজয় শঙ্কর আর আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ক্রিকেটের আঙিনায় ফিরছেন না। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, হতাশা আর ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের অনবরত কটাক্ষের শিকার হয়ে অবশেষে ৩৫ বছর বয়সে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন তামিলনাড়ুর এই অলরাউন্ডার। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদায়বার্তা দিতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির চেয়েও বেশি প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা ও ভক্তদের থেকে পাওয়া ‘ঘৃণা’র খতিয়ান।
বিশ্বকাপের সেই বিতর্ক ও পারফরম্যান্সের খতিয়ান
২০১৮ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে অভিষেকের পর দ্রুতই ওয়ানডে দলেও ডাক পেয়েছিলেন বিজয় শঙ্কর। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ও বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে। ফর্মে থাকা আম্বাতি রায়ডুকে বাদ দিয়ে নির্বাচকরা যখন বিজয়কে দলে নেন, তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল তিনি ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই সমান পারদর্শী অর্থাৎ একজন ‘ত্রিমাত্রিক’ বা ‘থ্রি ডি’ ক্রিকেটার। এই তকমাটিই পরবর্তীতে তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্বকাপের মাঝপথে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার আগে এবং তারও আগে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে ক্রিকেট ভক্তদের তীব্র রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। ভারতের হয়ে ১২টি ওয়ানডেতে ২২৩ রান ও ৪টি উইকেট এবং ৯টি টি-টোয়েন্টিতে ১০১ রান ও ৫টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি, যেখানে কোনো হাফসেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরি নেই। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলেও (৭৮ ম্যাচে ১২৩৩ রান ও ৯ উইকেট) নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি।
বিদায়বেলায় একরাশ হতাশা ও আগামীর প্রভাব
অবসরের ঘোষণায় বিজয় শঙ্কর দেশের হয়ে খেলার গর্বের কথা মনে করালেও, ক্রিকেটপ্রেমীদের নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। বিদায়বার্তায় তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, ক্যারিয়ার জুড়ে তাঁকে অবিশ্বাস্য ঘৃণা ও নেতিবাচকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিজেকে ‘থ্রি ডি’ ক্রিকেটার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রবল মানসিক চাপ ও অবজ্ঞা সহ্য করেই তিনি এতদিন এগিয়ে গিয়েছেন।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় শঙ্করের এই আকস্মিক অবসরের নেপথ্যে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত ট্রোলিং এবং প্রত্যাশার চাপ। নির্বাচকদের দেওয়া একটি তকমা কীভাবে একজন ক্রিকেটারের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স গ্রাস করতে পারে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে, বিজয়ের বিদায় তারই এক নির্মম উদাহরণ। এই ঘটনা আগামী দিনে তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মানসিক প্রভাব ও ট্রোলিং সংস্কৃতির অন্ধকার দিকটিকে আবারও বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।