২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল, ‘থেমে থাকবে না দেশের ফুটবল’ হুঙ্কার কল্যাণ চৌবের

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে ভারতসেরা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিশোরভারতী স্টেডিয়ামের এই ঐতিহাসিক জয়ের রেশ টেনেই এবার ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় আশার কথা শোনালেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সভাপতি কল্যাণ চৌবে। গত কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের এই সফল আয়োজনকে ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছেন তিনি।
আইনি জটিলতা কাটিয়ে সফল আয়োজন
বিগত প্রায় আট বছর ধরে দেশের ফুটবলের নিয়ামক সংস্থায় সংবিধান সংক্রান্ত মামলা এবং একাধিক আইনি জটিলতা চলছিল। এক সময় ফুটবল মহলে এমন একটি আবহ তৈরি হয়েছিল যেখানে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে, হয়তো এই বছর মাঠে বলই গড়াবে না। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা ও নেতিবাচক আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সফলভাবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) আয়োজন করতে পেরেছে ফেডারেশন। শুধু আইএসএল-ই নয়, সুপার কাপ, সন্তোষ ট্রফি এবং বিভিন্ন লিগসহ বছরজুড়ে মোট ২১টি টুর্নামেন্টে প্রায় ২১০০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতির মতে, কিছু মহলের তৈরি করা কৃত্রিম বিতর্ক বা আশঙ্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের ফুটবলকে সচল রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারসাম্য ফিরল কলকাতা ডার্বিতে
এবারের মরশুমে ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং কলকাতা ডার্বির ভারসাম্য ফিরে আসা। গত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গল বড় কোনো সাফল্য না পাওয়ায় ডার্বির যে একতরফা আবহ তৈরি হচ্ছিল, লাল-হলুদ শিবিরের এই জয়ে তা কেটে গেল। শতাব্দী প্রাচীন এই দুই প্রধানের ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথই যে ভারতীয় ফুটবলের মূল চালিকাশক্তি, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এআইএফএফ সভাপতি। টুর্নামেন্টের শেষ দিন পর্যন্ত মোহনবাগান, মুম্বই সিটি এফসি, পাঞ্জাব এফসি এবং জামশেদপুর এফসির মতো একাধিক দল শিরোপার দৌড়ে থাকায় এবারের আইএসএল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মরশুম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
ভবিষ্যৎ ফুটবলে ইতিবাচক প্রভাব
ইস্টবেঙ্গলের এই পুনরুত্থান এবং লিগের এই রুদ্ধশ্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ঘরোয়া ফুটবলে দলগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকলে স্পনসরশিপ ও দর্শকদের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে, দীর্ঘস্থায়ী আইনি অচলাবস্থা কাটিয়ে এত বিপুল সংখ্যক ম্যাচ আয়োজন করার ফলে তৃণমূল স্তর থেকে নতুন ফুটবলার উঠে আসার পথ আরও সুগম হবে, যা জাতীয় দলের পাইপলাইনকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।