দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু-ঋতব্রত সাক্ষাৎ ঘিরে জোর জল্পনা!

দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু-ঋতব্রত সাক্ষাৎ ঘিরে জোর জল্পনা!

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে দিল্লির বঙ্গভবনে মুখোমুখি হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি নিজ দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সংবাদ শিরোনামে আসা ঋতব্রতর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও জল্পনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, কলকাতায় যখন তৃণমূলের অন্যান্য বিধায়করা বিধানসভায় বসার ঘর না পেয়ে মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্ধ মিনিটের সাক্ষাৎ ও সৌজন্য বিনিময়

দিল্লির বঙ্গভবনে দুপুরের খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঋতব্রতকে দেখামাত্রই মুখ্যমন্ত্রী তাকে ‘কী MLA সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী জানান যে তিনি খুব শীঘ্রই বিধায়কদের একটি বৈঠক ডাকছেন এবং সেখানে ঋতব্রতকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ঋতব্রতও সৌজন্যমূলক নমস্কার বিনিময় করেন। সাবেক সাংসদ হিসেবে দিল্লির আবাসন ছেড়ে দেওয়া এবং আইডি কার্ড ও পাসপোর্টের কাজ সারতেই তিনি বর্তমানে দিল্লি অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য সমীকরণ

তৃণমূলের অন্দরে এমনিতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। দলের সতীর্থরা যখন বিধানসভায় তীব্র আন্দোলনে ব্যস্ত, তখন দলের এক ‘বেসুরো’ বিধায়কের সঙ্গে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই হাসিমুখের সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে নতুন বার্তা বহন করছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন ঋতব্রতর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিল, অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল। তবে ঋতব্রত এটিকে স্রেফ সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ এবং পদের প্রতি সাধারণ ভদ্রতা বলে দাবি করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *