নির্বাচনী প্রচারের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

ভোটের ময়দানে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তাঁর করা মন্তব্য নিয়ে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করে এফআইআর খারিজের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তৃণমূল সাংসদের বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আইনি জট ও কঠোর শর্তের রক্ষাকবচ

গত ৫ মে রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি বাগুইআটি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে লিখিত এফআইআর দায়ের করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট পাঁচটি গুরুতর ধারায় এই মামলা রুজু হয়, যার মধ্যে কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য। এই মামলায় পুলিশি হয়রানি এড়াতে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ ও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূলের এই শীর্ষনেতা।

আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করলেও আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে, যার ফলে এই সময়ের মধ্যে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে চরম কোনো পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে এই স্বস্তির পাশাপাশি একগুচ্ছ কঠোর শর্ত বেঁধে দিয়েছে উচ্চ আদালত। শর্তানুযায়ী, তদন্তকারীরা ডাকলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে হাজিরা দিয়ে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে ভার্চুয়ালি হাজিরার যে আবেদন তাঁর আইনজীবী করেছিলেন, তাও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এছাড়া তদন্তে সহযোগিতা না করলে পুলিশ পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে এবং তলব করার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁকে নোটিশ পাঠাতে হবে।

বিচারপতির তীব্র ভর্ৎসনা ও আইন-শৃঙ্খলার আশঙ্কা

মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন উচ্চপর্যায়ের এবং তিনবারের নির্বাচিত সাংসদের মুখ থেকে এমন বক্তব্য আসা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল যদি অন্যরকম হতো, তবে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জেরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা হিসেবে দাবি করলেও আদালত তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা মনে করেছে। এই রায়ের ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং সশরীরে হাজিরার নির্দেশ তৃণমূল সাংসদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, এবং তদন্তের অগ্রগতি আগামী দিনে তাঁর আইনি অবস্থান নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *