ইম্পা অফিসে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর অসুস্থ সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত

ইম্পা অফিসে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর অসুস্থ সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত

ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ইম্পার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অশান্তি থামার লক্ষণ নেই। গত সপ্তাহের তীব্র বাদানুবাদের পর, শুক্রবারের নির্ধারিত বৈঠকটি রূপ নেয় রীতিমতো রণক্ষেত্রে। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষুব্ধ সদস্যদের অনড় অবস্থান এবং বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের কার্যালয় এখন চরম উত্তপ্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বৈঠক চলাকালীন পিয়া সেনগুপ্তকে লক্ষ্য করে ‘ফাইল চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে অফিস ত্যাগ করেন।

বহিরাগত হাঙ্গামা ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

এদিনের বৈঠকের শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল থমথমে। আলোচনার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ফাইল হাতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁর অভিযোগ, কতিপয় প্রযোজক ও পরিচালক পুলিশ প্রশাসনের সামনেই ইম্পার সদস্য নন এমন বহিরাগত ও জনসংযোগের লোক ভেতরে ঢুকিয়ে হাঙ্গামা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের মতো এখানেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে দাবি করে তিনি সরাসরি থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে, পুলিশি পাহারায় বৈঠক পুনরায় শুরু হলে ধ্বনিভোটের মাধ্যমে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে রতন সাহার নাম ঘোষণা করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত কমিটিকে এভাবে জোর করে সরানো যায় না। এর বিরুদ্ধে তিনি আইনের পথে হাঁটার এবং আদালতের মাধ্যমে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ ও আগামী দিনের প্রভাব

বিক্ষুব্ধ শিবিরের পক্ষে চলচ্চিত্র পরিবেশক শতদীপ সাহা পাল্টা দাবি করেছেন যে, বর্তমান সভাপতি প্রথমে পদত্যাগ করতে রাজি হলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে এবং পুরো বর্তমান কমিটিই এখন অবৈধ।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, ইম্পার মতো একটি শীর্ষস্থানীয় সংগঠনে এই দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা এবং কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি সামগ্রিকভাবে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কার্যকলাপে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নতুন ছবির প্রযোজনা, পরিবেশনা এবং টলিউডের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব সংকট আগামী দিনে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *