পুকুর ভরাট ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি! বাঁশবেড়িয়ায় রণংদেহী বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ

পুকুর ভরাট ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি! বাঁশবেড়িয়ায় রণংদেহী বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন জেলায় জেলায় তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের ধরপাকড় চলছে, ঠিক তখনই এবার বেআইনি নির্মাণ ও পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ আমদানির স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো হুগলিতে। হুগলির সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এলাকায় পুকুর ভরাট করে গজিয়ে ওঠা বেআইনি বহুতল নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি বুলডোজার চালানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ।

বৃহস্পতিবার দলীয় কর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সাথে নিয়ে বাঁশবেড়িয়ার বিতর্কিত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান বিধায়ক। সেখানে বেআইনিভাবে বুজিয়ে ফেলা পুকুর এবং নিয়মবহির্ভূত বহুতলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বেআইনি কাজ বরদাস্ত নয়, বার্তা স্বরাজের

বিগত জমানায় বাঁশবেড়িয়া পুরসভা ও সংলগ্ন এলাকায় শাসকদলের স্থানীয় নেতা ও সিন্ডিকেটের মদতে কীভাবে একের পর এক জলাশয় ভরাট করে বহুতল আবাসন গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এবার সেই সমস্ত বেআইনি কারবারের শিকড় উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন সরকার।

এলাকা পরিদর্শন শেষে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিয়ে বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ স্পষ্ট জানান:

“রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার কোনো রকম বেআইনি কাজ বা সিন্ডিকেট রাজ বরদাস্ত করবে না। সাধারণ মানুষের জল নিকাশি ব্যবস্থা ও পরিবেশের ক্ষতি করে যারা পুকুর ভরাট করেছে, সেই সমস্ত বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং আইন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মতো এখানেও বেআইনি ইমারতের ওপর বুলডোজার চালানো হবে।”

নেতারা শ্রীঘরে, এবার নিশানা বেআইনি ইমারত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ডানকুনি পুরসভার কাউন্সিলর সূর্য দে, সল্টলেকের তোলাবাজ নেতা কিংবা কালনার অনিল বসুরা একে একে পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন, ঠিক অন্যদিকে ভাটপাড়া ও হালিশহরের মতো পুরসভাগুলিতে তৃণমূলের গণ-ইস্তফা চলছে— সেই কঠিন সময়ে বিজেপির এই ‘বুলডোজার নীতি’র হুঁশিয়ারি হুগলি জেলায় এক নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।

বিগত তৃণমূল বোর্ডের পুরপ্রতিনিধিদের অনেকেই এখন গণরোষ এবং আইনি তদন্তের ভয়ে এলাকাছাড়া বা নিষ্ক্রিয়। এই সুযোগে এতদিন কোণঠাসা হয়ে থাকা সাধারণ মানুষও এখন সরাসরি বিধায়কের কাছে এসে জমি দখল ও জলাশয় ভরাটের ভূরিভুরি অভিযোগ জমা দিচ্ছেন। নবান্নের গ্রিন সিগন্যাল মেলার পর, বাঁশবেড়িয়া পুরসভার এই সমস্ত বেআইনি বহুতল ভাঙতে প্রশাসন কবে থেকে অ্যাকশনে নামে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *