১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব! মাদার হাউস দিয়ে ভারত সফর শুরু করছেন মার্কো রুবিও

ব্যারাকপুর মহকুমা ও কালনায় তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি এবং কলকাতা পুরসভার নজিরবিহীন ‘ক্লাব রুম’ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি যখন চরম উত্তপ্ত, ঠিক তখনই এক মহাগুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার কলকাতায় পা রাখছেন আমেরিকার কোনো বিদেশ সচিব। আজ, শনিবার কলকাতা থেকেই নিজের ভারত সফর শুরু করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী-ও।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় রাজ্যে যখন একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও নতুন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আবহ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন বিদেশ সচিবের এই কলকাতা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
মাদার হাউস থেকে ভিক্টোরিয়া, কড়া নিরাপত্তায় মোড়া তিলোত্তমা
মার্কিন বিদেশ সচিবের এই ঝটিতি সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই সেজে উঠেছে কলকাতা। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাঁর যাওয়ার সমস্ত রুট এবং গন্তব্যস্থলগুলিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
শনিবার মার্কিন বিদেশ সচিবের দিনভর কর্মসূচি:
- মাদার হাউস ও চিলড্রেনস হোম: এদিন সকালে কলকাতায় পা রেখেই মার্কো রুবিও প্রথমে যাবেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের মাদার হাউসে। সেখানে মাদার তেরেসার সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন তিনি। এরপর মাদার হাউসেরই একটি চিলড্রেনস হোম (শিশুমঙ্গল কেন্দ্র) পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
- ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: মাদার হাউসের কর্মসূচি শেষ করে মার্কিন বিদেশ সচিবের পরবর্তী গন্তব্য কলকাতার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। সেখানে কলকাতার সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলী খতিয়ে দেখবেন তিনি।
বিকেলেই দিল্লির উড়ান, নজরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
কলকাতায় দিনভর একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর, আজ শনিবার বিকেলেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। দিল্লিতে গিয়েই তিনি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মূল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে (Bilateral Talks) অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি সংকট রুখতে বিকল্প খোঁজার জরুরি নির্দেশ দিচ্ছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি সফরে গিয়ে জল জীবন মিশন ও আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে কেন্দ্রের থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ আদায় করছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই মন্ত্রীর কলকাতা দিয়ে ভারত সফর শুরু করা ভারতের ভূ-রাজনীতিতে বাংলার গুরুত্বকে আরও একবার প্রমাণ করল।