দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ইবোলা আতঙ্কে বিমানযাত্রীদের জন্য জারি জরুরি নির্দেশিকা

দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ইবোলা আতঙ্কে বিমানযাত্রীদের জন্য জারি জরুরি নির্দেশিকা

করোনা এবং মাঙ্কিপক্সের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে এই ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এই আবহে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নির্দেশিকায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দেশগুলো থেকে আসা বা ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

আফ্রিকার দেশগুলোতে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫১৩ জন সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্য দপ্তর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে স্বীকার করে নিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থার প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার দেশের প্রবেশপথগুলোতে আগাম নজরদারি বাড়িয়েছে। মূলত আক্রান্ত বন্য পশুর সংস্পর্শ এবং ইবোলা আক্রান্ত রোগীর শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে এই মারাত্মক রোগ ছড়ায়। আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তীব্র জ্বর, চরম শারীরিক দুর্বলতা, পেশিতে যন্ত্রণা, বমি, ডায়েরিয়া এবং শরীর থেকে রক্তপাতের মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দেয়। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দর ছাড়ার ২১ দিনের মধ্যে এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

ঝুঁকির মুখে কি এরাজ্যও

দিল্লিতে এই কড়া নির্দেশিকা জারির পর পশ্চিমবঙ্গের জনমনেও স্বাভাবিকভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি আফ্রিকা থেকে কোনও বিমান না এলেও, দিল্লি, মুম্বই, দুবাই বা দোহার মতো বড় ট্রানজিট হাবগুলো থেকে প্রতিদিন প্রচুর কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রী কলকাতায় আসেন। ফলে দিল্লিতে স্ক্রিনিং জোরদার হলেও কলকাতা বিমানবন্দরেও যাত্রীদের ভ্রমণের ইতিহাসের ওপর কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।

যদিও এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতের কোথাও কোনও ইবোলা আক্রান্ত রোগী না মেলায় আতঙ্কিত হওয়ার সরাসরি কোনও কারণ নেই। তবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি মেনে দিল্লি বিমানবন্দরের মতো কলকাতা বিমানবন্দরেও যদি দ্রুত নজরদারি বাড়ানো যায় এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবেই এরাজ্যকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *