সম্পর্কের বরফ গলাতে ভারতে মার্কিন বিদেশসচিব, নজরে মোদী-জয়শঙ্কর বৈঠক ও কোয়াড

গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা মেরামতের লক্ষ্য নিয়ে এবার আসরে নামলেন খোদ ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিবিদ। চারদিনের এক মেগা সফরে শনিবারই ভারতে পা রাখছেন নতুন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। বিদেশসচিব হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। নয়াদিল্লি সূত্রের খবর, এই হাইভোল্টেজ সফরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্তরে দীর্ঘ বৈঠক করবেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘কোয়াড’ (Quad) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও যোগ দেবেন রুবিও। ভারত সফর নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে ভারতের সঙ্গে কাজ করার মতো প্রচুর ক্ষেত্র রয়েছে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ড্যামেজ কন্ট্রোল
কূটনৈতিক মহলের মতে, গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যই দুই দেশের সম্পর্কে মূলত ফাটল ধরায়। ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি সাউথ ব্লক সরাসরি উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকার শাস্তিমূলক ট্যারিফ বা শুল্ক চাপানো, নতুন অভিবাসন নীতি এবং এইচওয়ান-বি (H1B) ভিসার ফি বাড়ানোর মতো মার্কিন সিদ্ধান্ত দিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছিল। সম্পর্কের এই বরফ গলাতেই গত মাসে ভারতের বিদেশসচিব ওয়াশিংটন সফর করেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়। মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরকে সেই ধারাবাহিকতায় একটি বড় ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ক্ষত মেরামতের চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকের আলোচ্যসূচি ও সম্ভাব্য প্রভাব
কূটনৈতিক সূচি অনুযায়ী, শনিবার কলকাতায় একটি স্থানীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বিকেলেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করবেন মার্কো রুবিও। এরপর রবিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শক্তি ক্ষেত্র, ক্রিটিকাল টেকনোলজি এবং দুই দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট এবং বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে তার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও বিশদ আলোচনা হবে। মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত হতে চলা কোয়াড-এর মেগা বৈঠক ও এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার হাত ধরে ভারত-মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।