ফেল করা পরীক্ষার্থীরাই আজ প্রশাসনের শীর্ষে! পিএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে এবার সামনে এল রহস্যময় কৌশিক যোগ

ফেল করা পরীক্ষার্থীরাই আজ প্রশাসনের শীর্ষে! পিএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে এবার সামনে এল রহস্যময় কৌশিক যোগ

পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার এক প্রভাবশালী চক্রের সন্ধান মিলল। ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সি সহ একাধিক আধিকারিকের নিয়োগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে কৌশিক ভট্টাচার্য নামের এক ব্যক্তির নাম। অভিযোগ উঠেছে, পিএসসি-র অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সুযোগ নিয়ে অযোগ্য পরীক্ষার্থীদের মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পাস করিয়ে এক্সিকিউটিভ ক্যাডারে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ডাব্লিউবিসিএস (WBCS) মেইন পরীক্ষার মেধা তালিকায় এই নজিরবিহীন কারচুপির ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

পর্দার আড়ালে প্রশ্ন ফাঁস ও খাতা বদলের খেলা

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত কৌশিক ভট্টাচার্য পিএসসি-র একজন সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ডেড আপার ডিভিশন ক্লার্ক (ইউডিসি)। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তিনি সাসপেন্ড থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া এতদিন এগোয়নি। অভিযোগ, কৌশিক পিএসসি-র ভেতরে বসে একটি সুসংগঠিত ‘ফিক্সড রিক্রুটমেন্ট’ চক্র চালাতেন। টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে খাতার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর জালিয়াতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এই চক্রের মাধ্যমেই ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সির প্রতিটি পেপারে রহস্যজনকভাবে ৭০ থেকে ৮০ নম্বর বাড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেধা তালিকায় নজিরবিহীন জালিয়াতি ও প্রশাসনিক প্রভাব

তদন্তের সূত্র ধরে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ডাব্লিউবিসিএস মেইন পরীক্ষায় অন্তত আটজন পরীক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে উত্তীর্ণই হতে পারেননি। অথচ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সময় দেখা যায়, অনুত্তীর্ণ সেই সমস্ত পরীক্ষার্থীদের নাম এক্সিকিউটিভ তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। ফেল করা পরীক্ষার্থীরা কীভাবে ইন্টারভিউয়ের স্তরে পৌঁছালেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ স্তরের একাংশের মদত ছাড়া মেধা তালিকা এভাবে বদলে ফেলা এবং অভিযুক্ত অফিসারদের আড়াল করা সম্ভব ছিল না।

এই দুর্নীতির জেরে একদিকে যেমন যোগ্য ও পরিশ্রমী চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন, অন্যদিকে অযোগ্য ব্যক্তিরা প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বসে ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা জানতে ইন্টারভিউ প্রসেস ও নম্বরের ফরেনসিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *