মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ব্রিটেন!

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা কঠোর ‘নিষেধাজ্ঞা’ উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সরকার রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার অনুমোদন দিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সংকটের মুখে যুক্তরাজ্যের এই ইউ-টার্ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত
মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে বাঁচাতে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে স্টার্মার প্রশাসন। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, যার জেরে হরমুজ় প্রণালীতে তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দেশের ভেতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত রাশিয়ার তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডন।
আমদানির বিশেষ কৌশল ও প্রভাব
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘাত এড়াতে ব্রিটেন একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল আসবে না। মস্কো থেকে প্রথমে তৃতীয় কোনো দেশ অশোধিত তেল কিনবে। এরপর সেই দেশের শোধনাগারে তেল শোধন করার পর তা আমদানি করবে লন্ডন।
ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটনের সাথে লন্ডনের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। আপাতত এই তেল আমদানির অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ ঘোষণা করেনি ব্রিটিশ সরকার। জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করা হবে।