আমেরিকায় ফের আইটি ছাঁটাইয়ের খাঁড়া, চরম অনিশ্চয়তায় হাজার হাজার ভারতীয় কর্মী

আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে আবারও বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ক্ষেত্রে। বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকলের পর এবার বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করেছে ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা। একলপ্তে প্রায় ৮,০০০ কর্মীকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মেটা প্রধান মার্ক জ়ুকেরবার্গ এই পদক্ষেপকে ‘খুব কঠিন সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করলেও, এই গণছাঁটাইয়ের জেরে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মার্কিন মুলুকে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।
কৃত্রিম মেধার দাপট ও মেটার ব্যয়সংকোচন নীতি
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগের খরচ সামাল দিতেই এই ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু কর্মী ছাঁটাই-ই নয়, আগামী দিনে সংস্থায় যে ৬,০০০ শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল, তাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এইচ১বি (H-1B) ভিসাধারী বিদেশি কর্মীরা, যাদের একটি বড় অংশই ভারতীয় নাগরিক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে আইটি ক্ষেত্রে আরও বড় সংকট আসতে চলেছে।
৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড এবং গ্রিন কার্ডের অনিশ্চয়তা
আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় পেশাদারদের জন্য চাকরি হারানোর অর্থ কেবল আয়ের উৎস বন্ধ হওয়া নয়, বরং দেশটিতে থাকার আইনি অধিকার হারানো। মার্কিন অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীরা চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর বা নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য মাত্র ৬০ দিন সময় পান। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি না মিললে তাদের সপরিবারে আমেরিকা ছাড়তে হবে। বছরের পর বছর ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা, সেখানে বাড়ি কেনা কিংবা সন্তানদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা।
বর্তমান মন্দা ও সামগ্রিক নিয়োগ কমে যাওয়ার বাজারে ৬০ দিনের মধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে অনেক ভারতীয় কর্মী এখন আমেরিকায় অতিরিক্ত কয়েক মাস থাকার জন্য অস্থায়ী বিকল্প হিসেবে বি-২ ভিজিটর ভিসায় পরিবর্তনের আবেদন করছেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমেরিকায় চাকরি হারানো প্রায় অর্ধেক ভারতীয় পেশাজীবী বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসার কথা ভাবছেন, আবার অনেকেই বিকল্প হিসেবে কানাডা বা ইউরোপের দিকে পা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।