মন্দারমণির সৈকতে এবার পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সাপ, সৈকতে পা ফেলার আগে সাবধান!

বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় উইকেন্ড ডেস্টিনেশন পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমণি সৈকতে এবার দেখা মিলল পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক সামুদ্রিক সাপ ‘ইয়েলো বেলিড সি স্নেক’-এর। সম্প্রতি পরিবারসহ মন্দারমণিতে ছুটি কাটাতে গিয়ে হাওড়ার বাসিন্দা শোভন রায় এই সাপের একটি ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেন। প্রথমে এটিকে সাধারণ সামুদ্রিক প্রাণী মনে করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই শোরগোল পড়ে যায়। নেটিজেনরা সাপটির আসল পরিচয় ও এর ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করার পর থেকেই পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিন বছর আগে দিঘার উপকূলে এই সাপ দেখা গিয়েছিল, যা এবার মন্দারমণিতে ফিরে আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ল।
উপকূলে বিষাক্ত ত্রাস ও এর কারণ
উপরিভাগ কালো, পেট উজ্জ্বল হলুদ এবং লেজের দিকটা নৌকার বৈঠার মতো চ্যাপ্টা আকৃতির এই ইয়েলো বেলিড সি স্নেক মূলত গভীর সমুদ্রের বাসিন্দা। তবে সমুদ্রের প্রবল ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস কিংবা দিকভ্রান্ত হয়ে মাঝেমধ্যে এরা উপকূলের বালুতটে চলে আসে। বর্ষার মরশুমের শুরুতে সমুদ্রে জলস্তরের পরিবর্তন এবং স্রোতের গতিপ্রকৃতির কারণেও এই বিষধর সাপ তটভূমিতে ভেসে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসার অভাব ও শারীরিক প্রভাব
সর্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপের বিষ অত্যন্ত মারাত্মক, যা মায়োটক্সিক এবং নিউরোটক্সিকের এক মরণঘাতী সংমিশ্রণ। কামড়ানোর পর এর নিউরোটক্সিন বিষ মানুষের স্নায়ু ও পেশির সংযোগস্থলকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দেয়। ফলে বুক ও পেটের মাঝখানের প্রধান পেশি ‘ডায়াফ্রাম’ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা হারায়। একই সঙ্গে বিষের প্রভাবে পেশির প্রোটিন রক্তে মিশে ‘মায়োগ্লোবিনইউরিয়া’ দেখা দেয়, যার ফলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত শুরু হয়। বিষের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভারতে এই সাপের বিষের কোনো অ্যান্টিভেনাম তৈরি হয় না। শুধুমাত্র থাইল্যান্ডের রেডক্রস সোসাইটি এর প্রতিষেধক প্রস্তুত করে, যা এ দেশে সহজলভ্য নয়।
পর্যটনে সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা
মন্দারমণি, দিঘা বা তাজপুরের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে এই বিষধর সাপের উপস্থিতি পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সমুদ্রে স্নান করা বা সৈকতে হাঁটার ক্ষেত্রে পর্যটকদের মধ্যে একধরনের মানসিক ভীতি তৈরি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সৈকতে কোনো অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণী বা হলদে পেটের সাপ নজরে পড়লে অবিলম্বে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং কোনোভাবেই সেলফি বা ভিডিও তোলার জন্য তার কাছে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।