চাকরি খুঁজে হন্যে যুবকরা, অথচ মিলছে না ‘এই’ পেশার লোক! রোজগার মেলায় বড় দাবি প্রধানমন্ত্রীর

রোজগার মেলা থেকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে কর্মসংস্থানের এক অভূতপূর্ব চিত্র দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীদের পক্ষ থেকে যখন মোদি জমানায় বেকারত্বকে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেগে দেওয়া হচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ উলটো সুর শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। তাঁর দাবি, দেশজুড়ে কর্মসংস্থানের এমন জোয়ার এসেছে যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৭টি শহরের একযোগে আয়োজিত রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবক-যুবতীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে তিনি এই বার্তা দেন।
উন্নয়নের গতি ও প্লাম্বার সংকট
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রসিকতার সুরে জানান, সরকারি প্রকল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এত ব্যাপক হারে চলছে যে শহর অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে পিএনজি (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস) সংযোগ দেওয়ার জন্য তিনি নিজে কলের মিস্ত্রি বা প্লাম্বার খুঁজে পাননি। তাঁর মতে, ‘জল জীবন মিশন’ সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী যুক্ত থাকায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। গ্রাম এবং ছোট শহরের প্রান্তিক স্তরে উন্নয়নের কাজ চলায় তৃণমূল স্তরে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, যার ফলে কাজের লোকের আকাল দেখা দিয়েছে।
পিপিপি মডেল ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের দাপট
এই বিপুল কর্মসংস্থানের পেছনে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ বা পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে দেশে ২ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত স্টার্ট-আপ সংস্থা কাজ করছে, যা আগামী দিনে কর্মসংস্থানের পরিধি আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর হাবের মতো অত্যাধুনিক শিল্পে লক্ষ লক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সুপার কম্পিউটিং বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রযুক্তিগত প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সব আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করা, যা পরোক্ষভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে।