ভোট মিটতেই জ্বালানির ছ্যাঁকা, মোদীকে ‘মূল্যবৃদ্ধির নায়ক’ কটাক্ষ কংগ্রেসের

ভোট মিটতেই জ্বালানির ছ্যাঁকা, মোদীকে ‘মূল্যবৃদ্ধির নায়ক’ কটাক্ষ কংগ্রেসের

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে দেশের চার মহানগরী-সহ সর্বত্রই এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দাম। শেষ ১০ দিনের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার বাড়ল তেলের দাম। আর এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। মোদীকে ‘মেহেঙ্গাই ম্যান’ বা মূল্যবৃদ্ধির নায়ক কটাক্ষ করে কংগ্রেসের অভিযোগ, দেশের আমজনতার স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তেল সংস্থাগুলির মুনাফা বাড়াতেই ব্যস্ত এই সরকার। আশঙ্কামতোই বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ লিটার পিছু জ্বালানির দাম চড়চড় করে বাড়তে শুরু করেছে, যা গত ৯ দিনে প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শনিবার সকালে নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ার পর বিরোধী দল কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষ যখন তীব্র মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাজেহাল, তখন মোদী সরকার কর্পোরেট বন্ধুদের আখের গোছাতে সাহায্য করছে বলে তাদের তোপ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠা-পড়া এবং সরকার ও তেল সংস্থাগুলির পক্ষে আর ভর্তুকির বোঝা বহন করা সম্ভব না হওয়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বিরোধীদের দাবি, বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন নাগরিকদের সুরাহা দিচ্ছে, তখন মোদী সরকার পুঁজিবাদীদের সুবিধা পাইয়ে দিতে ব্যস্ত।

রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি কলকাতায়, চার মহানগরের চিত্র

চলতি মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের চার মহানগরের মধ্যে কলকাতার বাসিন্দাদের পকেটেই সবচেয়ে বেশি কোপ পড়েছে। শনিবারে নতুন দাম বৃদ্ধির পর কলকাতায় পেট্রলের দাম ৯৪ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ১১০.৬৪ টাকা এবং ডিজেল ৯৫ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৭.০২ টাকা। দেশের রাজধানীতেও পেট্রল ও ডিজেল যথাক্রমে ৯৯.৫১ টাকা এবং ৯২.৪৯ টাকায় পৌঁছেছে। বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে পেট্রল ১০৮.৪৯ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.০২ টাকায় বিকোচ্ছে। পাশাপাশি চেন্নাইতে পেট্রল ১০৫.৩১ টাকা ও ডিজেল ৯৬.৯৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মহানগরের বাইরে রাজস্থানের জয়পুরেও পেট্রল ১০৮.৯১ টাকা এবং ডিজেল ৯৪.১৫ টাকা ছুঁয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র শক্তি সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ভারতীয় মধ্যবিত্তের পকেটে। জ্বালানির এই লাগাতার দাম বৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন খরচ বাড়বে, যার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং শাকসবজির দাম আরও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই সাধারণ মানুষের ওপর এই বাড়তি বোঝা চাপায় ইতিমধ্যেই আমজনতার মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা আগামী দিনে মোদী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *