জ্বালানির বাজারে আগুন, এবার মধ্যবিত্তের পকেটে কোপ মারল মহার্ঘ সিএনজি

পেট্রোল এবং ডিজেলের পর এবার মধ্যবিত্তের উদ্বেগের পারদ আরও বাড়িয়ে আকাশছোঁয়া হতে চলেছে সিএনজি বা কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাসের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে দেশের বাজারে সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে আরও এক টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত মাত্র নয় দিনের মধ্যে এই নিয়ে তিনবার সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি ঘটল, যা আমজনতার দৈনন্দিন যাতায়াত খরচে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি
অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির মূল কারণ মূলত ভূ-রাজনৈতিক সংকট। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে ভারতে জ্বালানি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির জেরে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি দৈনিক বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলেই একদিকে যেমন পেট্রোলে লিটার প্রতি ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলে ৯১ পয়সা দাম বেড়েছে, ঠিক তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে সিএনজির দামও।
নতুন এই সিদ্ধান্তের পর রাজধানী দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় সিএনজির দাম কেজিতে ৮১ টাকা ৯ পয়সায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে নয়ডা ও গাজিয়াবাদে এই দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং আজমেরে প্রতি কেজি সিএনজির দাম সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ৪৪ পয়সায় ঠেকেছে। এর আগে গত ১৫ মে এবং ১৮ মে দুই দফায় সিএনজির দাম বাড়ানো হয়েছিল।
পরিবহন ক্ষেত্রে বিপর্যয় ও আমজনতার আশঙ্কা
সিএনজির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে চলেছে। বর্তমানে কলকাতা ও দিল্লিসহ দেশের একাধিক বড় শহরের অটো, ট্যাক্সি এবং একটি বড় অংশের যাত্রীবাহী বাস সিএনজি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানির খরচ এক ধাক্কায় এতটা বেড়ে যাওয়ায় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। অটো ও ট্যাক্সি চালকদের দাবি, বাড়তি খরচের বোঝা সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। স্বাভাবিকভাবেই নিত্যযাত্রীদের পকেটে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।