মাঝরাতে তৃণমূল প্রধানের বাড়িতে তাণ্ডব, আক্রান্তের ডাকে পুলিশ পাঠালেন বিজেপি নেতা

বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের চান্দাই গ্রামে রাতের অন্ধকারে এক তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে সংঘটিত এই হামলায় পখন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহসিনা বেগমের বাড়ির দরজা, জানালার কাচ ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁর একটি চারচাকা গাড়িও গুঁড়িয়ে দেয় একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। তবে এই চরম রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেও এক নজিরবিহীন সৌজন্যের ছবি উঠে এসেছে, যেখানে আক্রান্ত তৃণমূল প্রধানের ফোন পেয়ে তাঁর সাহায্যে পুলিশ পাঠান স্থানীয় এক বিজেপি নেতা।
হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক
ঘটনার সময় গভীর রাতে চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে পঞ্চায়েত প্রধান মহসিনা বেগম স্থানীয় বিজেপি নেতা বাপি গড়াইকে ফোন করেন। খবর পাওয়া মাত্রই ওই বিজেপি নেতার তৎপরতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়, যদিও তার আগেই দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে চম্পট দেয়। শনিবার সকালে বিজেপি নেতৃত্ব আক্রান্ত প্রধানের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নিরাপত্তার আশ্বাসও দেন। আক্রান্ত তৃণমূল প্রধানের দাবি, হামলাকারীরা বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতী। অন্যদিকে, পদ্ম শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ধনঞ্জয় গড়াই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনো কর্মী জড়িত নন।
এলাকায় উত্তেজনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর থেকে চান্দাই গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে এই ধরনের হামলা গ্রামীণ স্তরে আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে নির্দেশ করে, যা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তিক্ততা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে বিপদের সময়ে তৃণমূল প্রধানের বিরোধীদের দ্বারস্থ হওয়া এবং বিজেপি নেতার পুলিশ পাঠিয়ে সহযোগিতার ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দোষীদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বড়জোড়া থানার পুলিশ।