দিল্লির টাকা পাওয়া নিয়ে রাজনীতির অবসান! শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় এবার সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথেই বদলে গেল দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক রেওয়াজ। কেন্দ্রের পাঠানো অর্থ নিয়ে অতীতে যেখানে লুকোছাপা কিংবা লাগাতার বঞ্চনার অভিযোগ তোলার চল ছিল, সেখানে এবার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ছবি দেখা গেল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বাস্থ্য খাতে ৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা সানন্দে স্বীকার করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড়সড় গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
টাকা প্রাপ্তির খতিয়ান ও নতুন প্রকল্পের সূচনা
শনিবার এক জরুরি বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি আর্থিক বছরের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন খাতে ২,১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে দিল্লি, যার মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকের ৫২৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের তহবিলে চলে এসেছে। এর পাশাপাশি, আগামী জুলাই মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রের অংশীদারিত্বের আরও ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য খাতে রাজ্য আপাতত মোট ৩,০৭৯ কোটি টাকা পাচ্ছে।
রাজ্যের প্রায় ৬ কোটি মানুষ যারা বর্তমানে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ডের সুবিধা পান, তাঁরা সকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়ুষ্মান ভারতের আওতাভুক্ত হবেন। এছাড়া, নতুন করে আবেদনের সুযোগও থাকছে। এমনকি ভিন রাজ্যে কর্মরত বা বসবাসকারী বাঙালিরাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন না। একই সাথে আগামী ৩০ মে থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে সার্ভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হবে।
উন্নয়নের আলো উত্তরবঙ্গে
নতুন পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘এইমস’ (AIIMS) হাসপাতাল গড়ে তোলার বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলায় তিনটি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে, যার জন্য জমি খোঁজার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের অবসান ও সমন্বয়ের রাজনীতি
বিগত বাম আমল থেকে শুরু করে সাড়ে তেরো বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানা—দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের এক ধরনের সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে রাজ্যের নিজস্ব নাম দেওয়া এবং তার জেরে দিল্লির অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ভুক্তভোগী হচ্ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লির সাথে এই সংঘাতের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সমন্বয়ের বার্তা দিতে চেয়েছেন। প্রথম দফায় এই বিপুল অর্থ প্রাপ্তি এবং নতুন প্রকল্পের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকলে রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা প্রাপ্তি অনেকটাই সহজতর হয়।