ওঁকে ফোনে-টোনে পাওয়া যায় না! ভুঁইফোঁড় সংস্থার ধমক খেয়েই পদত্যাগ? বিস্ফোরক কাকলি ঘোষ দস্তিদার

নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে ইস্তফা দেওয়ার পর এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বারাসাতের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পদত্যাগের পর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়েছে কি না, সংবাদমাধ্যমের তরফে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান যে, ফোনে কাউকে পাওয়াই যায় না। একই সঙ্গে একটি ভোটকুশলী সংস্থাকে ‘ভুঁইফোঁড়’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর ওপর ছড়ি ঘোরানোর মারাত্মক অভিযোগও তুলেছেন এই প্রবীণ নেত্রী।
‘উনি খুব ব্যস্ত থাকেন, ফোনে পাওয়া যায় না’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ আর চেপে রাখতে পারেননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি ইস্তফা দেওয়ার আগে বা পরে কোনো কথা বলিনি। কারণ, ওঁকে ফোনে-টোনে পাওয়া যায় না। উনি ব্যস্ত থাকেন, খুব ব্যস্ত থাকেন। তাই বিগত কয়েক বছর ধরেই ওনাকে আর ফোনে পাওয়া যায় না।” দলের অভ্যন্তরে যে নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষ স্তরের যোগাযোগের একটি বড়সড় অভাব বা ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, প্রবীণ সাংসদের এই মন্তব্যে তা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এলো।
‘২১-২২ বছরের মেয়ে আমাকে ধমকে যাচ্ছে’
দলীয় সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে একটি পেশাদার ভোটকুশলী বা ভুঁইফোঁড় সংস্থার অহংকার ও খবরদারিকে সরাসরি দায়ী করেছেন কাকলি। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলের মধ্যে হঠাৎ করেই কিছু ভুঁইফোঁড় সংস্থা এসে ধমক দিত। ২১-২২ বছরের একটা মেয়ে এসে আমাকে ধমকে যাচ্ছে! ওরা তো জানেই না যে ওরা কার সঙ্গে কথা বলছে, কার রাজনৈতিক ইতিহাস কেমন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করে আইপ্যাক (I-PAC) বা এই ধরনের কোনো পেশাদার এজেন্সির অভ্যন্তরীণ খবরদারির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ নেত্রীকে যেভাবে এজেন্সির কমবয়সী কর্মীদের নির্দেশ বা ধমক শুনতে হচ্ছিল, তা যে তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। উত্তর ২৪ পরগনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার সভাপতি পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই আকস্মিক পদত্যাগ এবং দলের শীর্ষ স্তর ও এজেন্সির বিরুদ্ধে এমন খোলাখুলি তোপ দাগার ঘটনায় এই মুহূর্তে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।