পৌরসভাতেও তৃণমূলের ধস! উত্তর ব্যারাকপুর থেকে কাঁথি, রাজ্যজুড়ে কাউন্সিলরদের গণ-পদত্যাগের হিড়িক

পৌরসভাতেও তৃণমূলের ধস! উত্তর ব্যারাকপুর থেকে কাঁথি, রাজ্যজুড়ে কাউন্সিলরদের গণ-পদত্যাগের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তৃণমূলের হাত থেকে একে একে ফসকে যাচ্ছে বিভিন্ন পৌরসভাও। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পৌরবোর্ডগুলিতে তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের ব্যাপক হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সোমবার উত্তর ব্যারাকপুর এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত কাঁথি— দুই পুরসভাতেই তৃণমূলের বোর্ড কার্যত ভেঙে পড়ল। এই গণ-ইস্তফাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

উত্তর ব্যারাকপুরে পুরপ্রধান সহ ১৫ জনের ইস্তফা

উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভায় সোমবার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। সেখানে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের পুরপ্রধান সহ মোট ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছিল। এই গণ-ইস্তফার জেরে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা এখন সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলো।

কাঁথিতে ভাঙল বোর্ড, দায়িত্বে এলেন পুরপ্রশাসক

অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের হাই-প্রোফাইল কাঁথি পৌরসভাতেও সোমবার তৃণমূলের আধিপত্যের অবসান ঘটল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই গড়টিতে থাকা কাঁথি পুরসভার ১২ জন তৃণমূল কাউন্সিলর এদিন মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরে গিয়ে সশরীরে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় সোমবার থেকেই কাঁথি পৌরসভা পরিচালনার সমস্ত দায়িত্বভার হাতে তুলে নিয়েছেন সরকারি পুরপ্রশাসক (Administrator)।

পৌরসভাগুলিতে ক্ষমতা বদলের কাউন্টডাউন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই রাজ্যের পুরবোর্ডগুলির ওপর তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে শুরু করেছিল। কাউন্সিলরদের এই দলবদ্ধ পদত্যাগ বা ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা আসলে তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। উত্তর ব্যারাকপুর ও কাঁথির পর রাজ্যের আরও একাধিক তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভাতেও আগামী দিনগুলিতে একই ধরনের ধস নামতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে, রাজ্য সরকারের পর এবার স্থানীয় পুর প্রশাসনেও যে খুব দ্রুত বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *