বিজেপি করার ‘অপরাধে’ নেওয়া ৮০ হাজার টাকা ফেরত! ক্যামেরার সামনে অপরাধ স্বীকার তৃণমূল নেতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হতেই এবার খোদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি করার অপরাধে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া ৮০ হাজার টাকা তোলা অবশেষে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা। শুধু টাকা ফেরত দেওয়াই নয়, ক্যামেরার সামনে নিজের অপরাধের কথা অকপটে স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোসবা এবং সংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২১ সালের তোলাবাজির টাকা ২০২৬-এ ফেরত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের হাই-প্রোফাইল বিধানসভা নির্বাচনের সময় গোসবার পালপুর ৩৩ নম্বর বুথ এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের বুথ সভাপতি পরিতোষ দাসের নেতৃত্বে সন্তোষ জানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। সন্তোষবাবুর ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে বিজেপি করতেন। সেই কারণে তাঁর কাছ থেকে জোর করে ৮০ হাজার টাকা তোলা হিসেবে আদায় করেছিলেন তৃণমূলের ওই বুথ সভাপতি।
ক্ষমতা বদলাতেই ভোলবদল, সশরীরে টাকা ফেরত
বিগত পাঁচ বছর ধরে এই নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী পরিবারটি। তবে ৪ মে রাজ্যে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই খোলনলচে বদলে যায় স্থানীয় প্রশাসনের। এলাকা জুড়ে বিজেপির পক্ষ থেকে অসাধু ও তোলাবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা শুরু হতেই পিছু হঠতে বাধ্য হন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পরিতোষ দাস। রবিবার তিনি সশরীরে গিয়ে সেই বিজেপি কর্মী সন্তোষ জানার হাতে সুদে-আসলে ওই ৮০ হাজার টাকা তুলে দিতে বাধ্য হন।
ক্যামেরার সামনে অপরাধ স্বীকার তৃণমূল নেতার
এই টাকা ফেরতের সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা মোবাইল ক্যামেরায় পুরো বিষয়টি রেকর্ড করেন। সেই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের বুথ সভাপতি পরিতোষ দাস ক্যামেরার সামনে হাত জোড় করে স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, বিগত নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই টাকা নেওয়াটা তাঁর মস্ত বড় ভুল এবং অপরাধ ছিল।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিগত পাঁচ বছর ধরে তৃণমূলের ছোট-বড় নেতারা সিন্ডিকেট আর তোলাবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কেটেছে। এখন রাজ্যে আইন ও সুশাসনের সরকার আসায় সাধারণ মানুষ তাঁদের হৃত অধিকার ও অর্থ ফিরে পেতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাকি তৃণমূল ভুঁইফোড় নেতাদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।