মুর্শিদাবাদ ও মালদায় অ্যাকশন শুরু! রাজ্যের হোল্ডিং সেন্টারে বন্দি ১২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

মুর্শিদাবাদ ও মালদায় অ্যাকশন শুরু! রাজ্যের হোল্ডিং সেন্টারে বন্দি ১২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনুপ্রবেশ রুখতে এবং বেআইনিভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশিকা মেনে মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় সদ্য তৈরি হওয়া হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে (Holding Centre) কাজ শুরু করে দেওয়া হলো। ইতিমধ্যেই ওপার বাংলা থেকে এরাজ্যে অবৈধভাবে ঢুকে পড়া মোট ১২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে এই সেন্টারগুলিতে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

লালগোলার পদ্মাভবনে ৩ বাংলাদেশি

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের লালগোলার ঐতিহাসিক ‘পদ্মাভবন’-এ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র দফতরের সবুজ সংকেত মেলার পরই সেখানে প্রথম দফায় ৩ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে এনে কড়া নিরাপত্তায় বন্দি রাখা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার পর এদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া ও পুশব্যাকের (Pushback) পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই এদের এই সেন্টারে রাখা হয়েছে।

মালদার বাগবাড়িতে বন্দি ৯ জন, তালিকায় মহিলা ও শিশু

অন্যদিকে, মালদা জেলার বাগবাড়ির একটি সরকারি ভবনে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারেও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মালদার গাজোল এলাকা থেকে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ৯ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছিল। ধৃতদের সকলকেই বাগবাড়ির এই হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে এসে রাখা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৯ জনের মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন নাবালক-নাবালিকা রয়েছে।

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্র দফতরের

নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যেই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলি সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। এতদিন ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের সাধারণ সংশোধনাগারে (জেল) রাখা হতো, কিন্তু এখন থেকে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিই ব্যবহার করা হবে। প্রশাসনের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিল যে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশের ইস্যুতে রাজ্যের নতুন শাসকদল কোনো রকম আপস করতে রাজি নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *