নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা শুভেন্দুর! এলাকার ‘বিশেষ দায়িত্ব’ দিলেন ভাই সৌমেন্দুকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পালাবদল। সংবিধানের নিয়ম মেনে নন্দীগ্রামের বিধায়ক (MLA) পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মা-মাটি-মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক যে বিন্দুমাত্র আলগা হচ্ছে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। রবিবার একটি অভিনন্দন জ্ঞাপন সভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর দুয়ার আগের মতোই খোলা থাকবে। একই সঙ্গে, এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের দেখভালের জন্য নিজের ভাই তথা বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে ‘বিশেষ দায়িত্ব’ অর্পণ করেন তিনি।
সংবিধানের নিয়ম মেনে ইস্তফা, তবু পাশে থাকার বার্তা
অভিনন্দন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তাঁকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হচ্ছে। তবে এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হবে না। তিনি বলেন, “আগে আমি যেভাবে আসতাম, এখনও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রয়োজনে সেভাবেই বারবার ছুটে আসব এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াব।”
ভাই সৌমেন্দুর কাঁধে নন্দীগ্রামের নতুন দায়িত্ব
শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন যে, তাঁর অনুপস্থিতিতে নন্দীগ্রামের সাধারণ জনগণ, স্থানীয় প্রশাসন এবং পঞ্চায়েতের যাবতীয় কাজকর্মের তদারকি করবেন তাঁর ভাই ও বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। সৌমেন্দুর কাঁধে এই ‘বিশেষ দায়িত্ব’ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, এলাকার উন্নয়নমূলক কোনো কাজই আটকে থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ যেকোনো সমস্যায় সৌমেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর নন্দীগ্রামের রাশ নিজের পরিবারের বিশ্বস্ত হাতেই রাখলেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন তিনি নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা বজায় রাখলেন, অন্যদিকে তাঁর ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে দলের রাজনৈতিক জমি ধরে রাখার ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করে দিলেন।