পাহাড়ে বেড়াতে গেলে এগুলি খাবেনই! দার্জিলিংয়ের ৫টি সেরা জিভে জল আনা খাবার

নিজস্ব প্রতিনিধি: এবার ছুটিতে কি ঘুরে আসতে চান মেঘ-কুয়াশার পাহাড়ে? বাঙালির বারো মাসের প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং তো রয়েছেই। কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ, ম্যালের আড্ডা থেকে টাইগার হিলের সূর্যোদয়— দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্যের কোনো তুলনা নেই। তবে পাহাড় ভ্রমণের আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তার সঙ্গে যোগ হয় স্থানীয় জিভে জল আনা খাবার। দার্জিলিংয়ের কনকনে ঠান্ডায় পাহাড়ি খাবারের স্বাদ না নিলে সফরটাই অধরা থেকে যায়। তাই দার্জিলিং ঘুরতে গেলে কোন ৫টি খাবার আপনাকে ট্রাই করতেই হবে, দেখে নিন এক ঝলকে:
১. মোমো (Momo)
দার্জিলিংয়ে গিয়ে মোমো খানি— এমন পর্যটক খুঁজে পাওয়া বিরল। এখানকার খাঁটি পাহাড়ি মোমোর স্বাদ কলকাতার চেনা মোমোর চেয়ে অনেকটাই আলাদা। পাতলা ময়দার আস্তরণের ভেতর রসালো মাংস বা সবজির পুর দিয়ে তৈরি গরম গরম মোমো আর তার সঙ্গে পরিবেশন করা ঝাল লাল চাটনি ও গরম সুপ, পাহাড়ি ঠান্ডায় যেন অমৃত।
২. থুকপা (Thukpa)
তিব্বতি সংস্কৃতির ছোঁয়া মাখা থুকপা হলো দার্জিলিংয়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। মূলত এটি একটি নুডলস সুপ, যা প্রচুর পরিমাণে মরসুমি আনাজ, ডিম বা মাংসের টুকরো দিয়ে তৈরি করা হয়। ম্যালের কনকনে ঠান্ডায় এক বাটি ধোঁয়া ওঠা গরম থুকপা নিমেষেই আপনার শরীর চনমনে করে তুলবে।
৩. শা ফালে (Sha Phaley)
যাঁরা একটু মুচমুচে খাবার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘শা ফালে’ অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি পদ। ময়দার লেচির ভেতরে কিমা করা মাংস বা সবজির পুর দিয়ে, আধখানা চাঁদের আকারে গড়ে সেটিকে ডুবো তেলে কড়া করে ভাজা হয়। ওপরটা মুচমুচে আর ভেতরটা রসে ভরপুর এই খাবারটি স্থানীয়দের অত্যন্ত প্রিয়।
৪. সেকুয়া (Sekuwa)
মাংসপ্রেমীদের জন্য সেকুয়া হলো দার্জিলিংয়ের এক বিশেষ আকর্ষণ। এটি আসলে নেপালি ঘরানার এক ধরনের তন্দুরি বা কাবাব। মাটন, চিকেন বা পোর্কের টুকরোকে বিভিন্ন পাহাড়ি মশলা দিয়ে ম্যারিনেট করে কাঠকয়লার আগুনে পুড়িয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর সুগন্ধ এবং স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো।
৫. ছুপরি (Chhurpi)
দার্জিলিংয়ের বাজারে বা ম্যালের চারপাশের দোকানে ঝুলতে দেখা যায় চারকোনা ছোট ছোট টুকরো। এটি হলো ‘ছুপরি’, যা আসলে ইয়াক বা পাহাড়ি গোরুর দুধ থেকে তৈরি এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী চিজ বা পনির। এটি দুই রকমের হয়— শক্ত এবং নরম। পাহাড়ে হাঁটার সময় মুখে একটা শক্ত ছুপরি দিয়ে রাখলে শরীর যেমন এনার্জি পায়, তেমনই দীর্ঘক্ষণ মুখের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে। স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ পেতে এটি একবার চেখে দেখতেই পারেন।