ইভিএম লুটের নয়া অভিযোগ মমতার! ভবানীপুরের জয় নিয়ে শুভেন্দুকে বেনজির আক্রমণ

ইভিএম লুটের নয়া অভিযোগ মমতার! ভবানীপুরের জয় নিয়ে শুভেন্দুকে বেনজির আক্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফলতা উপনির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয় এবং দলের অন্দরে একের পর এক ইস্তফার আবহে এবার এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে ইভিএম (EVM) লুট এবং ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয় নিয়ে মারাত্মক কারচুপির অভিযোগ এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবানীপুরের ভোট গণনা নিয়ে ফরেনসিক তদন্তের দাবি তুলে বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

‘ভবানীপুরে কী ভাবে জিতেছেন, আদালতে বলব’

ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভবানীপুরে আপনি কী ভাবে জিতেছেন? সেই সব তথ্যপ্রমাণ আমার কাছে আছে, সেটা আমি এবার সরাসরি আদালতেই বলব।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনার যদি সত্যিই সাহস থাকে, তবে ওই কেন্দ্রের ভোটের ফরেনসিক রিপোর্ট করান। আমাদের ইভিএমের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চাই।”

‘আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নাম উচ্চারণ না করেই তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “যিনি এখন গদিতে (মুখ্যমন্ত্রীর আসনে) বসেছেন, তাঁর নাম করতেও আমার ভালো লাগে না। তাঁকে আমরা অনেক দিন ধরে চিনি, তাঁর সমস্ত নাড়িনক্ষত্র আমার জানা।” এরপরই নবান্ন ছাড়া ও ক্ষমতাচ্যুতির প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত আবেগঘন ও বিস্ফোরক কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, “তিনি নিজে চেয়ারে বসে সমস্ত ভোট লুট করছিলেন। আর আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিতে দিতে ওখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য রাজনীতির ক্ষমতা বদলের পর এই প্রথম শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এতটা আক্রমণাত্মক এবং সরাসরি ‘ভোট লুটেরা’ বলে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রে যেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে বিজয়ী দাবি করে আসছেন, সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ফরেনসিক তদন্তের দাবি এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিল। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবান্ন বা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *