তৃণমূলে মুষলপর্ব! জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

তৃণমূলে মুষলপর্ব! জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ‘মুষলপর্ব’ যেন কিছুতেই থামছে না। বেলেঘাটায় বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক বড়সড় ধামাকা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দিলেন বারাসাতের প্রবীণ ও প্রভাবশালী তৃণমূল সাংসদ ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে ইতিমধ্যেই নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ।

চিঠি সুব্রত বক্সীকে, অনুরোধ দলনেত্রীকে

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার রাজ্য সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তবে শুধু পদত্যাগই নয়, তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি বিশেষ আর্জি বা অনুরোধও রেখেছেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থার’ ওপর অতিরিক্ত ভরসা না করে, দলের সেই পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাঁরা সুদিন-দুর্দিন সব সময়েই দলের পাশে থেকেছেন।

ভোটকুশলী সংস্থার সঙ্গে সংঘাতের জের?

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রবীণ এই নেত্রীর ইস্তফার নেপথ্যে কোনো পেশাদার ভোটকুশলী বা বহিরাগত এজেন্সির খবরদারি নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রয়েছে। নাম না করে ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করার মাধ্যমে তিনি দলের অন্দরে এজেন্সির ছড়ি ঘোরানোর সংস্কৃতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনার মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জেলার শীর্ষ পদ থেকে কাকলির এই সরে দাঁড়ানো এবং সরাসরি নেত্রীর উদ্দেশে এই ধরনের পরামর্শ দেওয়া দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড়সড় ফাটল বলেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা সুব্রত বক্সীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *