শুরু ‘বুলডোজার উৎসব’! বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

শুরু ‘বুলডোজার উৎসব’! বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর থেকে জেলা—রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম রবিবার এককথায় কার্যত ‘হ্যাপেনিং’ হয়ে উঠল। সৌজন্যে, উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশের ধাঁচে বাংলায় আমদানি হওয়া ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’। গত দু’সপ্তাহে রেলের জমি দখলমুক্ত করা কিংবা হকার উচ্ছেদে এর আংশিক ব্যবহার দেখা গেলেও, রবিবার বাংলাজুড়ে চলল বেআইনি নির্মাণ ভাঙার এক মহাপর্ব। কলকাতা থেকে পুরুলিয়া বা হুগলির খানাকুল—বছরের পর বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অবৈধ সাম্রাজ্য মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ করে দিল নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার।

কলকাতায় প্রাক্তন মন্ত্রীর ছেলের প্রোমোটিংয়ে ‘কোপ’

রবিবার কলকাতার কসবা, বেলেঘাটা ও তিলজলার মতো একাধিক এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় প্রশাসন। তিলজলার জি জে খান রোডে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা একটি বহুতল সকাল থেকেই ভাঙার কাজ শুরু হয়। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, এই অবৈধ প্রোমোটিংয়ের নেপথ্যে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কসবার বর্তমান বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খান। যদিও সরকারি খাতায় ওই ঠিকানায় অন্য নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে বিধায়ক জাভেদ খানের পৈতৃক ভিটেতেও নোটিস ঝুলিয়েছে পুরসভা। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি, কসবায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর তৈরি বেআইনি নির্মাণ এবং বেলেঘাটায় আর এক অভিযুক্ত রাজু নস্করের বেআইনি প্রোমোটিংয়ের ওপরও চলেছে বুলডোজার। এদিন শহরে সব মিলিয়ে ছ’টি বড়সড় বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রচুর শ্রমিক, ছেনি-হাতুড়ি, গ্যাস কাটারের পাশাপাশি মূল নজর কেড়েছে বিশালকার বুলডোজার, যা এক ধাক্কায় ভেঙে ফেলেছে কংক্রিটের দেওয়াল।

ঘটনাস্থলে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

কসবা অঞ্চলে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ খতিয়ে দেখতে এদিন সশরীরে হাজির হন রাজ্যের নতুন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। ঘটনাস্থল থেকে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “বেআইনি নির্মাণ ধরে ধরে চিহ্নিত করে একটা একটা করে ভাঙা হচ্ছে। অনেক জায়গায় সামনে কুখ্যাতদের নাম নেই, কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে এগুলি তারাই তৈরি করেছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর পুত্রের নামও তালিকায় রয়েছে, তাঁর দু’টি অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়েছে।” আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগে অগ্নিমিত্রা পাল আরও বলেন, “পূর্বতন সরকার এই সব বেআইনি নির্মাণকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এবার প্রোমোটার থেকে ডেভেলপার—সকলেই শাস্তি পাবেন। যাঁরা ঘুষ বা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এগুলি হতে দিয়েছেন, তাঁরাও ছাড় পাবেন না।”

জেলায় জেলায় এক ঘণ্টার নোটিসে উচ্ছেদ

কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিতেও এদিন ছিল বুলডোজারের দাপট। পুরুলিয়া কোর্ট চত্বরের সামনে মাত্র এক ঘণ্টার নোটিসে কয়েক দশকের পুরনো দখলদারদের সরিয়ে দেয় প্রশাসন, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক দোকানঘর। অন্যদিকে, হুগলির খানাকুলের নন্দনপুরে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বুলডোজার চালান বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। ভাঙা কাজের তদারকি করে বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, “নতুন করে কোনো অবৈধ নির্মাণ রাজ্যে আর বরদাস্ত করা হবে না।” নতুন সরকারের এই কড়া অ্যাকশন রাজ্যে প্রোমোটার মহলে যেমন ত্রাসের সৃষ্টি করেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *