হারের পর মোদী-মেলোনির চকোলেট কূটনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূলের একদা অপরাজেয় ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই আসনে বহুল চর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাস গড়ে জয়ী হয়েছেন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। এই নজিরবিহীন পরাজয়ের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক লাইভে এসে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফর ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে চকোলেট উপহার দেওয়া নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
‘ভোট লুঠ হয়েছে, প্রকৃত ফল ২২০-২৩০’
ফলতার ফলাফলকে ‘অস্বাভাবিক’ দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ইভিএমের তথ্য ও ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা ভোট লুঠ করেছেন। না হলে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বুলডোজার চালানো হচ্ছে, হকারদের জীবন-জীবিকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ইভিএম মেশিনের রিপোর্ট আমাদের চাই। আপনারা সত্যি জিতলে সাধারণ মানুষের ওপর এমন অত্যাচার করতেন না।”
মোদী-মেলোনির ‘মেলোডি’ চকোলেট নিয়ে তীব্র কটাক্ষ
নির্বাচনী ইস্যু ছাড়িয়ে এদিন তৃণমূল নেত্রীর নিশানায় ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক ইতালি সফর এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার দেওয়ার ভাইরাল ঘটনাটি। এই চকোলেট কূটনীতিকে নজিরবিহীনভাবে বিঁধে মমতা বলেন, “দেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে রয়েছে, সাধারণ মানুষ কাঁদছে, আর তিনি জ্বালানি পুড়িয়ে বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে চকোলেট দিচ্ছেন! এটা তো বাচ্চাদের দেওয়ার মতো উপহার, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মানায় না। আপনারা বিদেশে গিয়ে কী করছেন আমরা সবটাই জানি। আমি আজ পর্যন্ত কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে যাইনি, কারণ এটি রাজনৈতিক সৌজন্য নয়। কিন্তু এবার বলতে বাধ্য হচ্ছি।”
সংবাদমাধ্যম বয়কটের ডাক, ফেসবুকই নতুন অস্ত্র
এদিন মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, আগামী দিনে তিনি সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন না। মমতা বলেন, “সংবাদমাধ্যম জনমত দেখাচ্ছে না। আমার অস্ত্র এখন আমার ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়া। আমার সাধারণ মানুষকে কিছু বলার থাকলে আমি নিজের ফেসবুক পেজ থেকেই বলব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ঐতিহাসিক হার এবং প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া যে তৃণমূলের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় ধাক্কা, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চরম আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট। এখন দেখার, ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই জয়রথের জবাবে তৃণমূল আগামী দিনে কী রণকৌশল নেয়।