যুদ্ধক্ষেত্রে আরও ভয়ংকর রাশিয়া, ইউক্রেনে পরমাণু বহনে সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র হানায় শঙ্কিত বিশ্ব!

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সংঘাতের মাত্রা এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নিক্ষেপের কথা অবশেষে স্বীকার করেছে মস্কো। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের যে অভিযোগ তুলেছিলেন, রবিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেছে। এই হামলার জেরে ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং নতুন করে বিশ্বজুড়ে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
রাশিয়ার এই নজিরবিহীন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও মধ্যাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অংশ কেঁপে ওঠে। এক রাতের মধ্যেই ইউক্রেন লক্ষ্য করে ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এই যৌথ অভিযানে ‘ওরেশনিক’ ছাড়াও রাশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ‘ইস্কান্দার’, ‘কিনঝাল’ এবং ‘সিরকন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা রুখে দিতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে আক্রান্ত অঞ্চলটি প্রায় জনশূন্য থাকায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গেছে, তবে হামলায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানীতেই ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামলায় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, একটি বাজার এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে গেছে।
পাল্টা আঘাতের কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, রাশিয়ার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বেসামরিক অবকাঠামোর উপর ইউক্রেনীয় হামলার জবাবেই এই ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া বেছে বেছে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। রাশিয়ার এই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ব্যবহারের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইউ) এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। ইউ-র প্রতিনিধি কাজা কাল্লাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইউক্রেনের মাটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা ও আতঙ্ক ছড়ানোর এই রুশ প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে এই ধরনের পরমাণু বহনে সক্ষম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার আগামীদিনে সংঘাতের পরিধিকে আরও বিপজ্জনক ও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে।