প্রতিহিংসার রাজনীতি নাকি অন্য কিছু? “হোল্ডিং সেন্টার” ইস্যুতে বিস্ফোরক কুণাল-বাবুল

বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নীতিতে সিলমোহর পড়তেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তার বাস্তবায়ন। নবান্নের নির্দেশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুর্শিদাবাদের লালগোলার ঐতিহাসিক ‘পদ্মাভবন’-এ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি ‘হোল্ডিং সেন্টার’। সেখানে ইতিমধ্যেই তিন সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে কড়া পাহারায় বন্দি করার খবর চাউর হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নতুন সরকারের এই চরম ‘অ্যাকশন’-এর বিরুদ্ধে অল-আউট আক্রমণে নেমেছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
লালগোলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে নবান্নের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ এবং বাবুল সুপ্রিয়। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, সরকার মুখে একে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বললেও এটি আসলে আসামের মতো ‘ডিটেনশন সেন্টার’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণের একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে প্রথমে আদালতে পেশ করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয় এবং পরে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পুশব্যাক করা হয়। কিন্তু কোনো ট্রায়াল ছাড়াই যেভাবে মানুষকে এই সেন্টারে পোরা হচ্ছে, তার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বড় চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে বিরোধী শিবির। বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সীমান্তের নিরাপত্তা ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতা
এই সংবেদনশীল ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ (BSF)-এর ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত গলে যদি সত্যিই অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে তার সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্রের। বাবুল সুপ্রিয় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই জায়গাতেই যখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার চলছে এবং বিএসএফের এক্তিয়ারও ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, তখন কীভাবে এত বড় নিরাপত্তা গলদ তৈরি হচ্ছে?
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত রাজ্যে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং সন্দেহভাজনদের দ্রুত চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার প্রতিটা জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশিকা জারি করেছে। তবে আদালতের ট্রায়াল ছাড়া এই ধরণের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে এক গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একদিকে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, বিএসএফ-এর ভূমিকা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।