ভয়মুক্ত ফলতায় ফুটল পদ্ম, অভিষেককে নজিরবিহীন তোপ অগ্নিমিত্রার

ভয়মুক্ত ফলতায় ফুটল পদ্ম, অভিষেককে নজিরবিহীন তোপ অগ্নিমিত্রার

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করে এই আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। এই জয়কে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।

ভোটের এই ফলাফল সামনে আসতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিগত লোকসভা নির্বাচনের জয়ের মার্জিন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অগ্নিমিত্রা পল। তিনি দাবি করেন, ফলতার এই ফলাফলই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে কীভাবে অতীতে লোকসভা নির্বাচনে এখান থেকে ৭ লক্ষেরও বেশি ভোটে জয় হাসিল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই জয় আসলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারী ও যুবসমাজের এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের জয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। একইসঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে ‘তৃণমূলের হার-বার মডেল’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে।

তৃণমূলের জামানত বাজেয়াপ্ত ও বামেদের উত্থান

নির্বাচনী ফলাফলের সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর রেকর্ড জয়ের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের চরম ভরাডুবি হয়েছে। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করায় শাসক শিবির কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৭ হাজারেরও বেশি কিছু ভোট, যার ফলে তৃণমূল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামফ্রন্ট। বাম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন এবং কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ১০ হাজার ভোট।

জাতীয় স্তরে বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

ফলতার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কেবল রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর ঢেউ পৌঁছেছে জাতীয় স্তরেও। বিজেপির এই বিপুল জয়ের পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ফলতার মানুষ ভীতি প্রদর্শন ও চমকানি-ধমকানির রাজনীতিকে সশব্দে প্রত্যাখ্যান করে গণতন্ত্রকে জয়ী করেছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের প্রধান কারণ হলো শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানো, যা বিরোধী শিবিরকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। এই জয় আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের বিজেপি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে এবং ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভায় বিজেপির আধিপত্য তৃণমূলের রাজনৈতিক দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *