তৃণমূলে মহাবিস্ফোরণ, নারীবিদ্বেষী আধিপত্যের অভিযোগে পদ ছাড়লেন কাকলি

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ফাটল দেখা দিল। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর এবার বারাসাত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন প্রবীণ সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে পাঠানো তাঁর এই বিস্ফোরক ইস্তফাপত্র এবং পরবর্তী মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সম্প্রতি কালীঘাটের বৈঠকের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে ফেরানো হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই রদবদলের পরেই পদত্যাগ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি। সরাসরি নাম না করলেও দলেরই এক প্রভাবশালী সাংসদের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তীব্র ক্ষোভ ও নারীবিদ্বেষের অভিযোগ
পদত্যাগের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “পার্লামেন্টে বসে কাঁচা খিস্তি করছে… এই সব নারীবিদ্বেষী মানুষদের আধিপত্য মানতে পারছি না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অন্যান্যদের সংঘাত নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। লোকসভা ভোটের আগে কল্যাণকে সরিয়ে কাকলিকে মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল, যা নিয়ে কল্যাণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এবার সেই পদ কল্যাণকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরই প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন বারাসাতের সাংসদ।
ভোটকুশলী সংস্থা ও দলের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রশ্ন
নিজের ইস্তফাপত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদার পরাজয়ের ‘নৈতিক দায়’ নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও, পরোক্ষে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে (I-PAC) নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চিঠিতে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় না। নির্বাচনের এই ফলের পর দলের নতুন স্ট্র্যাটেজি এবং নতুনদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার নীতিকে যে প্রবীণ নেতৃত্ব সহজে মেনে নিচ্ছেন না, প্রবীণ নেত্রীর এই অবস্থানে তা পরিষ্কার।
ঘটনার প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
দলীয় নেতৃত্বের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্যে সাম্প্রতিক অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়েও চিঠিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি করেছে। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও মূল্যবোধ ফেরানো দরকার।
এই ঘটনার ফলে তৃণমূলের অন্দরে প্রবীণ বনাম নবীন দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরের এই ক্ষোভ ও অন্তর্ঘাত আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
'পার্লামেন্টে বসে কাঁচা খি*স্তি করছে, এই সব নারীবিদ্বেষী মানুষকে মানতে পারছি না #kakolighoshdastidar #resigned #tmcnews #kalyanbanerjee #thewallnews pic.twitter.com/OW11DXqxoY
— The Wall (@TheWall1367059) May 24, 2026