রাজ্যের নতুন সিইও হলেন নীলম মীনা, মনোজের জায়গায় গুরুদায়িত্বে ’৯৮ ব্যাচের আইএএস

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার নীলম মীনা। বিদায়ী সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে উন্নীত হওয়ায় এই শূন্যপদ তৈরি হয়েছিল। দিল্লির নির্বাচন সদনে পাঠানো তিনটি নামের প্যানেল থেকে নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশন নীলম মীনাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য চূড়ান্তভাবে বেছে নিয়েছে।
অভিজ্ঞতার ঝুলিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর
১৯৯৮ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার নীলম মীনা প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই শীর্ষ আমলা এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের উপভোক্তা বিষয়ক বিভাগের প্রধান সচিব হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, জেলা কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট, যুগ্ম সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ সামলেছেন।
কমিশনের বাছাই ও প্রশাসনিক রদবদল
রাজ্যের পরবর্তী সিইও নির্বাচনের জন্য নবান্নের পক্ষ থেকে তিনটি নাম ভারতের নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। এই দৌড়ে নীলম মীনা ছাড়াও ছিলেন তন্ময় চক্রবর্তী এবং মৌমিতা গোদারা বসু। বিধি মোতাবেক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের প্যানেল নীলম মীনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিবেচনা করে তাঁকে এই পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার এবং প্রাক্তন সিইও মনোজকুমার অগ্রবালকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যসচিব পদে নিয়ে আসায় নির্বাচনী আধিকারিকের এই পদটি ফাঁকা হয়েছিল।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সামনে থাকা বিভিন্ন উপনির্বাচন এবং সার্বিক নির্বাচনী প্রস্তুতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন সিইও-র ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। উপভোক্তা বিষয়ক দফতর থেকে সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার শীর্ষ পদে আসায় নীলম মীনার সামনে এখন প্রধান কাজ হবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বজায় রাখা। অতীতে মাঠপর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সচিবালয়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি দ্রুত রাজ্যের নির্বাচন দফতরের রাশ শক্ত হাতে ধরতে পারবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।