অভিযোগের পাহাড় মাথায় নিয়ে চুঁচুড়ায় গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়কের দুই ছায়াসঙ্গী!

চুঁচুড়ায় তোলাবাজি, জমি দখল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই যুববকে। ধৃতদের নাম বিজয় কাহার এবং বীরেন্দ্র সাহানি ওরফে লালন। সোমবার চুঁচুড়া মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
সন্ত্রাস ও তোলাবাজির দীর্ঘ খতিয়ান
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, ধৃত বিজয় ও বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে এলাকায় একচ্ছত্র দাপট ও ভীতি প্রদর্শনের একাধিক পুরনো মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালে এক বিজেপি কর্মীকে বন্দুকের বাট দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাদের নাম জড়ায়। শুধু তাই নয়, বিগত ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিরোধী শিবিরের ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এমনকি পুরসভা নির্বাচনের দিন এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করে দাঁত উপড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এলাকায় জমি দখল এবং নিয়মিত তোলাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রেফতারির পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে চুঁচুড়ায়। আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত বিজয় কাহার অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জেরে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দলবদলু কিছু প্রাক্তন বামপন্থী, যাঁরা বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাই এই চক্রান্তের নেপথ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিরোধী শিবির বিজেপির দাবি, পুলিশ ও প্রশাসন এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ শুরু করায় অপরাধীরা পার পাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার বদলের পর এই ধরণের প্রভাবশালী গ্রেফতারি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা কঠোর করতে প্রশাসন কোনো আপস করবে না, যা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।