ডায়মন্ড হারবার মডেলে ধস, ফলতায় বিপুল ভোটে হেরে চতুর্থ স্থানে তৃণমূল

লোকসভা নির্বাচনের বিপুল ব্যবধান নিমেষেই উধাও। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। গত লোকসভা নির্বাচনে যে ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন, রবিবারের ফলাফলে সেখানে ১ লক্ষের বেশি ভোটে পরাজিত হতে হয়েছে তাদের। শুধু পরাজয়ই নয়, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান শেষ করেছেন চতুর্থ স্থানে। এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আর ফলতার এই বিপর্যয় সামনে আসতেই শাসকদলকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূলের হার-বার মডেল ও শুভেন্দুর খোঁচা
ফলতার এই ফল প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবার মডেলকে তীব্র কটাক্ষ করে একে ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেল বলে অভিহিত করেছেন। গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। এর প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই সময় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হলেও, পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিগত নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার ও সিন্ডিকেট রাজের মাধ্যমে বিপুল লিড দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ১৫ বছর পর মানুষ যখন নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছেন, তখনই আসল বাস্তব সামনে এসেছে।
নোটার সঙ্গে লড়াইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী
নাম না করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করার পাশাপাশি বাংলার রাজনীতিতে শাসকদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ‘নোটা’ (নন অফ দ্য অ্যাবাভ)-র চেয়ে কম ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিল। ফলতার এই ফলাফলের পর আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূলকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই লড়তে হবে।
বিপর্যয়ের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই ফলাফলের পেছনে মূল কারণ হলো অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ। ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে ভোটাররা কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়া নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষ ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। এই পরাজয় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে গড়ে ওঠা ক্ষোভকে স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিল। ফলতার এই বিপর্যয় আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে শাসকদলের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।