কর্নাটকে কি এবার মুখ্যমন্ত্রী বদল, সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লি তলব করতেই রাজ্যজুড়ে ‘সিএম ডিকে’ পোস্টার!

কর্নাটক কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ ও কুর্সি কোন্দল এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে রদবদল নিয়ে জোর জল্পনার মাঝেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লিতে তলব করেছে দলীয় হাইকমান্ড। আগামী মঙ্গলবার, ২৬ মে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একটি হাইভোল্টেজ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, হাইকমান্ডের এই তলবের পরই রাজ্যজুড়ে উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের সমর্থনে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে, যা মুখ্যমন্ত্রী বদলের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আড়াই বছরের সমঝোতা ও শিবকুমার শিবিরের চাপ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংকটের সূত্রপাত মূলত সরকার গঠনের সময়কার এক অলিখিত চুক্তিকে কেন্দ্র করে। কর্নাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের মধ্যে আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদ ভাগাভাগির একটি অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে বর্তমান সরকারের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষমতার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়নি। ফলে গত ছয় মাস ধরে শিবকুমারের সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রী বদলের দাবিতে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। গত নভেম্বর মাসে শিবকুমার প্রকাশ্যে নিজের দাবি জানালে পরিস্থিতি জটিল হয়, যা সামাল দিতে খোদ রাহুল গান্ধীকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার রদবদল এবং নতুন ও তরুণ মুখদের সুযোগ দিয়ে বিধায়কদের ক্ষোভ প্রশমন করাও হাইকমান্ডের অন্যতম লক্ষ্য।
রাজ্যজুড়ে ‘হবু মুখ্যমন্ত্রী’ পোস্টার ও উদযাপনের হিড়িক
দিল্লির বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতেই কর্নাটকের রাজনীতিতে ডিকে শিবকুমারের অনুগামীরা কার্যত উৎসবের মেজাজে মেতে উঠেছেন। বেঙ্গালুরু থেকে বেলগাভি—রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে শিবকুমারকে ‘হবু মুখ্যমন্ত্রী’ ও ‘নেক্সট সিএম ডিকে বস’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশাল কাটআউট ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। মহীশুরে শিবকুমারের জন্মদিনের এক অনুষ্ঠানে তাঁর সমর্থকরা বিশেষ কেক কেটে উদযাপনও করেছেন। যদিও এই কুর্সি কোন্দল প্রসঙ্গে সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার দুজনেই জানিয়েছেন যে, হাইকমান্ডের ডাকা বৈঠকে তাঁরা যোগ দেবেন এবং শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা উভয় পক্ষই মেনে চলবে।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
কংগ্রেসের দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবারের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কর্নাটক সরকারের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব। যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে পরিবর্তন ঘটে, তবে তা যেমন শিবকুমার শিবিরের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে, তেমনই সিদ্দারামাইয়া শিবিরের অসন্তোষ বাড়িয়ে রাজ্যে নতুন কোনো অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি করতে পারে। আর যদি সিদ্দারামাইয়াকে পদে রেখে দেওয়া হয়, তবে শিবকুমার গোষ্ঠীর ক্ষোভ সামলানো হাইকমান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল।