নীতি নাকি পেশা, বিকাশ ভট্টাচার্যের মামলা লড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ খোদ কমরেডরাই!

তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলার আইনি লড়াইয়ে শামিল হয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রবীণ বাম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতি মামলার বিরুদ্ধে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে সরব হতে দেখা গেছে তাঁকে। অথচ, সেই তিনিই এবার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল দম্পতির হয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের সওয়াল করায় দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তুমুল অসন্তোষ। অর্থের বিনিময়ে নীতি বিসর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছেন বাম কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।
ক্ষুব্ধ শতরূপের বিস্ফোরক মন্তব্য
এই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন দলেরই তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ। প্রকাশ্যেই বর্ষীয়ান এই আইনজীবীর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, “চাই বিকাশদা হেরে যাক এই মামলা।” শতরূপ মনে করিয়ে দেন, এর আগেও অর্জুন সিংয়ের মতো বিতর্কিত নেতার হয়ে মামলা লড়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। তবে অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি এও বলেন যে, বিকাশ ভট্টাচার্যের লড়াইয়ের কারণেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদের শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল। তবে দলের পক্ষে যতই যুক্তি থাকুক না কেন, ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত যে তিনি মেনে নিতে পারছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শতরূপ।
বিতর্ক ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গুঞ্জন ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সস্ত্রীক হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া তৃণমূল দম্পতির আইনি ঢাল হিসেবে বাম নেতার আবির্ভাবকে ভালো চোখে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নীচুতলার বাম কর্মীদের মনোবল ধাক্কা দিতে পারে, যা দলের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। অন্যদিকে, সমস্ত সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এই আইনি পেশা ও মামলা লড়া নিয়ে যারা বিতর্ক তৈরি করছেন, তাঁরা আসলে গোটা বিষয়টি না বুঝেই মন্তব্য করছেন।