ক্ষমতা বদলের বাংলায় কাটেনি হিংসার রেশ, কোচবিহারে বিজেপির বিজয় মিছিলে তীব্র বোমাবাজি!

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ক্ষমতার এই পালাবদলের আবহে জেলায় জেলায় পদ্ম শিবিরের ছোট আকারের বিজয় মিছিল ঘিরে নতুন করে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। গত রবিবার কোচবিহারের সিতাই বিধানসভার গোসানিমারির ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আয়োজিত এমনই এক বিজয় মিছিলে অতর্কিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ওঠা বোমাবাজির এই ঘটনায় রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা।
আচমকা হামলায় রক্তাক্ত বিজেপি কর্মী
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল গোসানিমারির ছোট নল ধোনরা এলাকায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা যখন বিজয় মিছিলের প্রস্তুতি হিসেবে একটি মাঠে জড়ো হয়েছিলেন, ঠিক তখনই তাদের লক্ষ্য করে আচমকা বোমা ছোড়া হয়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। এই অতর্কিত বোমাবাজির জেরে রঞ্জিত কুমার বর্মন নামে এক বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিজেপি নেতা নির্মল চন্দ্র দাসের অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পনা করে এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ঐতিহাসিক সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুতি এবং বিজেপির উত্থানের এই সন্ধিক্ষণে গ্রাউন্ড লেভেলে আধিপত্য বজায় রাখার লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক হিংসার এই ধারাবাহিকতা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরেও এক বিজেপি নেতার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। কোচবিহারের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মসনদ বদলালেও তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যকার বুথ স্তরের সংঘাত এবং রাজনৈতিক বৈরিতা এখনই থামার লক্ষণ নেই, যা আগামী দিনগুলোতে গ্রামীণ এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।