ভয় কাটিয়ে এবার কাটমানি ফেরতের দাবিতে ফুঁসছে আরামবাগ

আরামবাগের গোঘাটে দুই তৃণমূলী ভাইয়ের লাগামহীন দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে শেষমেশ গণবিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভয় কাটিয়ে এবার সরাসরি অভিযুক্ত নেতাদের বাড়ির দেওয়ালে কাটমানি ফেরতের দাবিতে পোস্টার সাঁটলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ তৈরি হতেই গোঘাটের শ্যামবাজার এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মাটির বাড়ি থেকে দুর্নীতির অট্টালিকা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় জরাজীর্ণ মাটির বাড়িতে থাকা শাহাবুদ্দিন খান ও গিয়াসউদ্দিন খানের আর্থিক উত্থান ঘটে মূলত তৃণমূল জমানায় পদ পাওয়ার পর। দাদা শাহাবুদ্দিন খান গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। দাদার হাত ধরে রাজনীতিতে এসে ২০১৮ সালে শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান হন ভাই গিয়াসউদ্দিন। অভিযোগ, এরপর থেকেই কাটমানি ও তোলাবাজির টাকায় রাতারাতি গড়ে ওঠে তাদের পেল্লাই তিনতলা অট্টালিকা। গত এক দশকে গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এই দুই ভাই।
অত্যাচারের খতিয়ান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এলাকাবাসীর দাবি, এই বিপুল প্রতিপত্তির উৎস আসলে সাধারণ মানুষের থেকে হাতিয়ে নেওয়া কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ। শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, এই নেতাদের ও তাদের দলবলের লালসার শিকার হতে হয়েছে বহু স্থানীয় মহিলাকে। এমনকী বাজারের ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও তাদের হাত থেকে রেহাই পেতেন না; বিনামূল্যে ব্যাগ ভর্তি সবজি না দিলেই জুটত মারধর, বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংস অত্যাচার। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস থেকে শুরু করে খুনের রাজনীতি এবং পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার নেপথ্যে ছিল এই দুই ভাই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকায় ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশ তৈরি হতেই মানুষ এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা ক্ষোভের এই বহিঃপ্রকাশ আগামী দিনে ওই অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন খানের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিচারের আশায় আপাতত নতুন প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা আরামবাগ।