ফলতায় তৃণমূলের জামানত বাজেয়াপ্ত, সংখ্যালঘু ভোট কি ফিরছে বাম শিবিরে?

ফলতা উপনির্বাচনের ফলাফল পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির চিরাচরিত সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে বিজেপির বিপুল জয় যেমন প্রত্যাশিত ছিল, তেমনই তার চেয়েও বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে বামেদের পুনরুত্থান এবং শাসকদলের নজিরবিহীন বিপর্যয়। ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট, ফলতায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম, আর তৃণমূল কংগ্রেসের স্থান হয়েছে চতুর্থ নম্বরে। এই ফলাফলের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক দীর্ঘ এক দশক পর আবারও বামেদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে?
ভোটের সমীকরণ ও তৃণমূলের বিপর্যয়
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। বিগত নির্বাচনগুলিতে এই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের সিংহভাগই তৃণমূলের ঝুলিতে যেত, যা তাদের জয় নিশ্চিত করত। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই সমীকরণে বড়সড় বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলতা উপনির্বাচনে বিজেপির দেবাংশু পাণ্ডা ১,৪৯,৬৬৬ ভোট (৭১.২০%) পেয়ে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি ৪০,৬৪৫ ভোট (১৯.৩৪%) পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন। কংগ্রেসের আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ১০,০৮৪ ভোট (৪.৮০%)। সবাইকে চমকে দিয়ে মাত্র ৭,৭৮৩ ভোট (৩.৭০%) পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান, এমনকি তাঁর জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বামেদের উত্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ নতুন বিকল্প শক্তির সন্ধান করছেন। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী ভোটের আগেই কার্যত নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ায় শাসকদলের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-বিরোধী ভোটব্যাঙ্কের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ সিপিএমের দিকে চলে গিয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেসও কিছু ভোট টেনেছে, যার ফলে মুসলিম ভোট মূলত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বাম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি একজন হিন্দু অনগ্রসর শ্রেণির নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই ভোটপ্রাপ্তি ইঙ্গিত করছে যে, ধর্মীয় মেরুকরণের বাইরে গিয়ে মানুষ বিকল্প হিসেবে বামেদের বেছে নিচ্ছেন। এই প্রবণতা আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়লে তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ধস নামাতে পারে এবং বামেদের জন্য নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।