মিশনারি স্কুলেও এবার বাধ্যতামূলক বন্দে মাতরম, জোরকদমে চলছে রিহার্সাল

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দীর্ঘদিনের নির্দেশিকাকে কার্যকর করতে এবার তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এ রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সেই নির্দেশিকা মেনে কড়া বার্তা জারি করেছে। এর ফলে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের পাশাপাশি এবার ইংরেজি মাধ্যম ও মিশনারি স্কুলগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বহু স্কুলেই এখন প্রতিদিন নিয়ম করে ছাত্র-ছাত্রীদের এই গানটির রিহার্সাল করাচ্ছেন সঙ্গীত শিক্ষকরা।
ঐতিহ্য বনাম নতুন নিয়ম
শিলিগুড়ির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বেশ কিছু ইংরেজি মাধ্যম এবং মিশনারি স্কুলে এতদিন কঠিন সংস্কৃত শব্দবন্ধ ও উচ্চারণের জটিলতার অজুহাতে বন্দে মাতরম গাওয়া এড়ানো হচ্ছিল। এর পরিবর্তে অন্য কোনো গানকে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে বেছে নেওয়া হতো। তবে সাম্প্রতিক সরকারি কড়াকড়ির পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বেশ কিছু স্কুল ইতিমধ্যে সরকারের মনোভাব বুঝে তড়িঘড়ি শিক্ষার্থীদের গানটি শেখানো শুরু করেছে। শিলিগুড়ির একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অধ্যক্ষ জানান, তাদের স্কুলে আগে থেকেই বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হতো, তবে বর্তমান নির্দেশিকার পর এখন বাকি দুটি স্তবকও শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে। একই সাথে উত্তরবঙ্গ সহোদয় স্কুল কমপ্লেক্সের অধীনে থাকা ৮০টি সিবিএসই স্কুলকেও দ্রুত এই গান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্যকরের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিক্ষাঙ্গনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা জোরদার করতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলোর জন্যও বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তবে এখনও বেশ কিছু মিশনারি ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এই নিয়মের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন যে, বেশ কিছু মিশনারি স্কুল এখনও বন্দে মাতরম গাইছে না এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুত রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হতে চলেছে, যা শিক্ষাঙ্গনের প্রতিদিনের রুটিনে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ফেলবে।