মাটির বাড়ি থেকে দুর্নীতির পেল্লাই অট্টালিকা, আরামবাগে দুই তৃণমূলী ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে গ্রাম

আরামবাগের গোঘাটে দুই তৃণমূল নেতা শাহাবুদ্দিন খান ও গিয়াসউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে কাটমানি, তোলাবাজি এবং লাগামহীন অত্যাচারের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। সম্প্রতি এই দুই নেতার বাড়িতে কাটমানির টাকা ফেরত চেয়ে পোস্টার পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোঘাটের শ্যামবাজারে তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের চেপে রাখা ভয় কাটিয়ে সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ এলাকায় এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মাটির বাড়ি থেকে বিলাসবহুল প্রাসাদ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোঘাট-২ ব্লকের রাজনীতিতে একসময় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল শাহাবুদ্দিন খানের। তিনি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পদ পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। দাদার হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান ঘটে ভাই গিয়াসউদ্দিন খানের, যিনি ২০১৮ সালে শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান হন। অভিযোগ রয়েছে, পদে বসার পর থেকেই এই দুই ভাইয়ের আর্থিক পরিস্থিতি উল্কার গতিতে বদলাতে থাকে। একসময়ের জরাজীর্ণ মাটির বাড়ি ছেড়ে তৈরি হয় তিনতলার এক বিলাসবহুল অট্টালিকা। এলাকাবাসীর দাবি, এই বিপুল প্রতিপত্তির উৎস আসলে সাধারণ মানুষের থেকে নেওয়া কাটমানি, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন দুর্নীতির টাকা।
জনরোষের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম অত্যাচারের কারণেই আজ গ্রামবাসীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধুমাত্র তোলাবাজিই নয়, এই নেতাদের দাপটে এলাকার মহিলারাও নিরাপদ ছিলেন না। এমনকি সাধারণ বাজার-হাট থেকেও জোরপূর্বক বিনামূল্যে জিনিসপত্র তুলে নেওয়া হতো এবং প্রতিবাদ করলে জুটত মারধর বা বাড়ি ভাঙচুরের মতো শাস্তি। এই ভয়ের পরিবেশ কেটে যেতেই এখন টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হয়েছেন শোষিত মানুষ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণবিক্ষোভের ফলে ওই এলাকায় শাসকদলের ভিত যেমন আলগা হতে পারে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বিচারের আশায় সাধারণ মানুষ এখন নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।