জমির অবৈধ দখল রুখতে কড়া প্রশাসন, আসানসোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো তৃণমূলের কার্যালয়

জমির অবৈধ দখল রুখতে কড়া প্রশাসন, আসানসোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো তৃণমূলের কার্যালয়

বার্নপুরের পর এবার নিউটাউন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আসানসোল দক্ষিণের বার্নপুরে সেল-আইএসপির জমি দখল করে গড়ে ওঠা একটি তৃণমূল কার্যালয় সোমবার সকালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আসানসোল মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাঞ্চন মুখোপাধ্যায়ের এই কার্যালয়টি ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আইএসপি কর্তৃপক্ষের দাবি, এর আগে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও তৎকালীন শাসকদলের দাপটে অফিসগুলি সরানো সম্ভব হয়নি। তবে সোমবার সকালে কোনো সময় না দিয়েই এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে কাউন্সিলর জানান, জনগণের স্বার্থেই তিনি অফিসটি তৈরি করেছিলেন। মালপত্র সরানোর জন্য তিনি কয়েক দিন সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই অভিযান চালানো হয়। অবশ্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এবং সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে গৃহীত সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন জানিয়েছেন।

জিরো টলারেন্স নীতি ও দেশজুড়ে বুলডোজার অভিযান

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার পর এবার জেলাতেও এই উচ্ছেদ অভিযান গতি পেয়েছে। এর আগে তিলজলা, বেলেঘাটা এবং গড়িয়ার একাধিক অবৈধ পরিকাঠামো ও মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি হুগলিতেও বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া টোল আদায়ের জায়গা বুলডোজার দিয়ে তছনছ করা হয়েছে।

উচ্ছেদের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই লাগাতার অভিযানের মূল কারণ হলো সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৈরি হওয়া অবৈধ দখলদারি মুক্ত করা। প্রশাসনের এই কঠোর বার্তার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফিরছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পর পর পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের বেআইনি নির্মাণ বা সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রবণতা অনেকটাই হ্রাস পাবে এবং রাজ্যের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *