মুর্শিদাবাদের পর এবার মালদহ, অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপরতায় জেলায় জেলায় তৈরি হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার

মুর্শিদাবাদের লালগোলার পর এবার মালদহের ইংরেজবাজার। রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণ এবং তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে মালদহ জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারটি চালু করা হয়েছে, যা আগে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অফিস ছিল। বর্তমানে সিসিটিভি নজরদারি এবং কড়া পুলিশি পাহারায় মুড়ে ফেলা এই সেন্টারে শিশু ও মহিলাসহ ৯ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বন্দি রাখা হয়েছে। সম্প্রতি মালদহের গাজোল এলাকা থেকে এই ৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়, যাদের মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন নাবালক-নাবালিকা রয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহ মিলিয়ে রাজ্যে এ পর্যন্ত মোট ১২ জন বাংলাদেশিকে এই বিশেষ সেন্টারে আনা সম্ভব হলো।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক তৎপরতা
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। ফরেনার্স ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া মসৃণ করতেই এই উদ্যোগ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত চন্দনপার্কের এই সেন্টারে অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে রাখা হলেও, পরবর্তীতে জেলাশাসকের দপ্তর সংলগ্ন স্থায়ী এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার স্থানান্তরিত করা হবে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও রাজনৈতিক তরজা
এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে রাজ্যে অনুপ্রবেশ বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। অনুপ্রবেশের কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছেন, যারা ভারতীয় নাগরিক নন, তাঁদের দ্রুত নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে। তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, এতদিন রাজ্যকে রোহিঙ্গা ও বহিরাগতদের করিডর হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।