মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা! নিউটাউনে দাদাগিরি করে ‘আটক’ প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তথা জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে এবার কলকাতার বুকে মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠল। সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো ‘দাদাগিরি’ ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে অবশেষে পুলিশ তাঁকে আটক করেছে।
বেপরোয়া এসইউভির ধাক্কায় রক্তাক্ত বাইক আরোহী
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানার অন্তর্গত এলাকায় নিজের বিলাসবহুল এসইউভি (SUV) গাড়ি নিয়ে চরম বেপরোয়া গতিতে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারেন। ঝড়ের গতিতে থাকা ওই গাড়ির ধাক্কার অভিঘাতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হন অপর এক মোটরবাইক আরোহীও। দুর্ঘটনা ঘটানোর পর গাড়ি নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে প্রাক্তন বিডিও-র গাড়িটি আটকে ফেলেন।
প্রতিবাদ করতেই ‘সপাটে চড়ে’র হুমকি, ভাইরাল ভিডিও
দুর্ঘটনার পর জখম বাইক আরোহীকে উদ্ধার করে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেও, গাড়ি থেকে নেমে চরম ঔদ্ধত্য দেখাতে শুরু করেন অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। উত্তেজিত জনতা এই বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ করতেই তিনি উল্টে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা ডিজিটাল মিডিয়া যাচাই করেনি) দেখা যাচ্ছে, মদ্যপ অবস্থায় তিনি প্রতিবাদী জনতাকে উদ্দেশ্য করে কখনও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে চিৎকার করছেন, আবার কখনও ‘সপাটে চড়’ মারার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার ও দাদাগিরি করতে থাকেন তিনি।
খুনের মামলায় জামিনে মুক্ত প্রাক্তন বিডিও এবার থানা হাজতে
জনতার ক্ষোভ ও অনন্যাসুলভ আচরণের জেরে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইকো পার্ক থানার পুলিশ শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, সল্টলেকের নামী সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও নৃশংস খুনের মামলায় এই প্রশান্ত বর্মন অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সিআইডি (CID)-র হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত ছিলেন। জামিনে থাকা অবস্থাতেই কলকাতার রাস্তায় তাঁর এই নতুন কীর্তি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা তাঁর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।