‘সুখের পায়রাদের আটকাব না’! ভাঙনের আবহে অভিমানী সুর তৃণমূল নেত্রী মমতার

‘সুখের পায়রাদের আটকাব না’! ভাঙনের আবহে অভিমানী সুর তৃণমূল নেত্রী মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল এবং একের পর এক পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণ-পদত্যাগের জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কালীঘাটে নিজের বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে ডাকা এক জরুরি বৈঠকে কিছুটা অভিমানী, আবার কিছুটা লড়াইয়ের সুরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলের সুখের দিনে যারা সুবিধা নিয়েছে, এখন কঠিন সময়ে তারা চলে যেতে চাইলে তিনি কাউকে জোর করে আটকে রাখবেন না। বরং যারা শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখবেন, সেই প্রকৃত কর্মীদের নিয়েই তিনি নতুন করে সংগঠন সাজিয়ে ঘুরে দাঁড়াবেন।

ভাঙনের আবহে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। উত্তর ব্যারাকপুর, কাঁথি ও ডায়মন্ড হারবারের মতো একের পর এক পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধাননগর, বরানগর, দমদম, উত্তর দমদম ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে দমদমের তৃণমূল সভাপতি মদন মিত্র, ব্রাত্য বসু সহ একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার (জন্ডিস) কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস।

‘যারা চলে যেতে চায়, চলে যাক’

দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে কাউন্সিলরদের দলত্যাগ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের সুখের সময়ে অনেকেই পাশে ছিলেন। এখন কঠিন পরিস্থিতি দেখে অনেকেই ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এই ধরনের ‘সুখের পায়রাদের’ দলে রেখে কোনো লাভ নেই। আমি ওদের আর আটকাব না, যার ইচ্ছা চলে যেতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, সময় বলে দেবে কারা দলের প্রকৃত ও আদর্শবান কর্মী। যারা এই দুঃসময়েও নেত্রীর ওপর আস্থা রেখে দলে থাকবেন, তাঁদের নিয়েই আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হবে।

আইনি লড়াইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কাউন্সিলর ও নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে পুলিশি ও পুর অ্যাকশন শুরু হয়েছে, তা নিয়ে কাউন্সিলরদের ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের মানসিকভাবে চাঙা হতে এবং আইনি পথে লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের এই পাহাড়প্রমাণ আইনি জটিলতা ও মামলা থেকে রেহাই দিতে এদিন বৈঠকে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ লিগ্যাল কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এই কমিটিতে রাখা হয়েছে মলয় ঘটক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, তাপস চট্টোপাধ্যায় ও সব্যসাচী দত্তকে। আক্রান্ত ও মামলাগ্রস্ত কাউন্সিলরদের সমস্ত আইনি বিষয়গুলি দেখভাল করবে এই কমিটি।

ঈদ মিটলেই দিল্লি যাত্রা ও আন্দোলনের ডাক

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের তৃণমূল নেত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে চুপ করে বসে থাকবে না তাঁর দল। ঈদ মিটলেই রাজ্য জুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে নামবেন তিনি। প্রয়োজনে দলের বার্তা নিয়ে দিল্লি দরবারেও যাবেন বলে জানিয়েছেন। আপাতত সমস্ত কাউন্সিলর ও নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার, সাধারণ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া কর্মীদের ঘরে ফেরানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *