‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ শুরু! লক্ষ্য দ্রুত পুশব্যাক ও বিতাড়ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ ও তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এবার আরও একধাপ কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। দেশের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে মুর্শিদাবাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লালগোলা এলাকায় একটি সমবায় সমিতিকে তড়িঘড়ি ‘হোল্ডিং ক্যাম্পে’ (Holding Camp) রূপান্তর করা হলো। মূলত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) পদ্ধতি অনুসরণ করে এই সেন্টারে থাকা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ওপার বাংলায় পুশব্যাক করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রোহিঙ্গাদের আনাগোনা রুখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের এজেন্সিগুলি সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে লালগোলার এই সমবায় সমিতিটিকে চিহ্নিত করে সেটিকে সাময়িকভাবে একটি সুরক্ষিত হোল্ডিং ক্যাম্পের রূপ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই অন্য জেলা থেকে ধৃত ৯ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে কড়া নিরাপত্তায় এই ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর।
লক্ষ্য দ্রুত পুশব্যাক ও বিতাড়ন
তদন্তকারী আধিকারিকদের একাংশের দাবি, এতদিন বেআইনিভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে যারা ধরা পড়ত, তাঁদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশোধনাগারে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতির মূল লক্ষ্যই হলো, অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাঁদের ভোটার বা অন্যান্য তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং দ্রুত পুশব্যাকের মাধ্যমে ভারতের ভূখণ্ড থেকে বের করে দেওয়া। লালগোলার এই ক্যাম্পটি মূলত সেই বহিষ্কার প্রক্রিয়ার ট্রানজিট পয়েন্ট বা অন্তর্বর্তী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতারাতি এই হোল্ডিং ক্যাম্প তৈরি এবং অনুপ্রবেশকারীদের সেখানে নিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে, সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি রাখার পাশাপাশি কোনো প্রকৃত নাগরিক যাতে হেনস্থার শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখার দাবি জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন এই ক্যাম্পকে ঘিরে লালগোলা ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।