আইনি লড়াইয়ে অনীহা! মমতার নির্দেশ সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই থেকে ‘পালিয়ে যাচ্ছেন’ তৃণমূল প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার যে বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন, দলের অন্দরেই তা বড়সড় ধাক্কা খেল। ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের সেই পরিকল্পনাকে কার্যত ভেস্তে দিয়ে নির্বাচনী পিটিশন (Election Petition) বা আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতেই চাইছেন না দলের একাধিক পরাজিত প্রার্থী, যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।
স্নেহাশিস চক্রবর্তীর অনীহা, ক্ষুব্ধ কল্যাণ
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের এই নতুন বিড়ম্বনা নিয়ে খোদ আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী কোনোভাবেই নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করতে রাজি হচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়ে এই আইনি লড়াই টানার বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অনীহা প্রকাশ করেছেন। স্নেহাশিসের মতো প্রথম সারির নেতার এই অবস্থান বাকি পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যেও মামলা না করার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নেত্রীর নির্দেশ অমান্য, বাড়ছে রাজনৈতিক গুঞ্জন
৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন যে, পুনর্নির্বাচন ও গণনার দাবিতে তাঁর দল আদালতের দ্বারস্থ হবে। নেত্রীর সেই নির্দেশ মেনেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন লিগ্যাল সেল সবরকম প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু খোদ প্রার্থীরাই এখন এই দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার ঝক্কি পোহাতে নারাজ। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে অর্থ ও সময় ব্যয় করতে চাইছেন না স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো প্রার্থীরা।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি, কটাক্ষ বিজেপির
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে আদি-নব্য এবং নেতৃত্ব বনাম প্রার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত নতুন করে সামনে চলে এসেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে মামলার জন্য মরিয়া, সেখানে প্রার্থীদের এই ‘পিছু হঠার’ মানসিকতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। অন্যদিকে, এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। পদ্ম শিবিরের দাবি, তৃণমূলের প্রার্থীরা খুব ভালো করেই জানেন যে নির্বাচন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে হয়েছে, তাই পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তাঁরা আদালতের সামনে গিয়ে নিজেদের হাস্যাস্পদ করতে চাইছেন না।