বিশ্বজুড়ে জ্বালানি উদ্বেগ, তবে ভারতে সংকট নেই আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতে বর্তমানে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। উদ্ভূত যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মোদি সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আশ্বাস
সোমবার পরিবহন, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে। বৈঠক সূত্রে খবর, সরকারি আধিকারিকরা কমিটিকে নিশ্চিত করেছেন যে আন্তর্জাতিক স্তরে অস্থিতিশীলতা বাড়লেও দেশে জ্বালানির জোগানে কোনও ঘাটতি হবে না। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে বর্তমানে ৭৮ দিনেরও বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা দেশের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড়সড় সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।
বিকল্প পথে সার আমদানি ও ত্রিস্তরীয় কৌশল
পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটের প্রভাব ভারতের কৃষি খাতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কারণ দেশীয় চাহিদার ৩০ শতাংশেরও বেশি সার হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। তবে বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে বিকল্প রুট ও ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র মূলত তিনটি কৌশলের ওপর ভরসা করছে। প্রথমত, কৌশলগত মজুত বজায় রাখা, দ্বিতীয়ত, আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং তৃতীয়ত, নৌপরিবহন, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কূটনীতি বিষয়ক মন্ত্রকগুলির মধ্যে নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করা।
মূল্যবৃদ্ধির চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের তেল সংস্থাগুলি অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবৃদ্ধির জন্য চাপ দিচ্ছিল। দেশে ভোটপর্ব মিটতেই সরকার দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহণ খরচ বাড়ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। ইতিমিধ্যেই জ্বালানির দাম বাড়ার খেসারত হিসেবে বাজারজুড়ে দুধ ও রুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে শুরু করেছে। সরকার জ্বালানি জোগানের নিশ্চয়তা দিলেও, আন্তর্জাতিক যুদ্ধের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এই চোরা স্রোত দেশের অর্থনীতিতে কতটা চাপ সৃষ্টি করে, এখন সেটাই দেখার।