“গরুকে আদর করুন, ব্লাড প্রেশার কমবে”, দিলীপ ঘোষের নতুন তত্ত্বে তোলপাড়
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/19/dilip-ghosh-2026-05-19-13-30-55.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে গরুর নানাবিধ উপযোগিতা নিয়ে পুনরায় এক নতুন দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন পঞ্চায়েত, প্রাণীসম্পদ ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। উত্তর কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এক প্রাতঃকালীন চা-চক্রে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, গরুকে নিয়মিত আদর করলে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার অনায়াসে কমে যায়। দেশি গরুর গলকম্বল কিংবা পিঠের কুঁজে আলতো করে হাত বোলালে শরীরের চড়া রক্তচাপ অত্যন্ত দ্রুত স্বাভাবিক নিয়মে নেমে আসে বলে তিনি মনে করেন। নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনা ও হাসাহাসির রোল তৈরি হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক গো-তত্ত্ব
গো-বলয় এবং গরুর মাহাত্ম্য নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক ময়দানে নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালে বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন তিনি দাবি করেছিলেন যে দেশি গরুর পিঠের কুঁজের ভেতরে একটি বিশেষ ‘স্বর্ণনাড়ি’ থাকে, যা সূর্যের আলোর সাহায্যে শরীরে সোনা তৈরি করে। ফলে দেশি গরুর দুধে সোনার উপাদান মিশ্রিত থাকে এবং দুধের রঙে হালকা হলুদ আভা দেখা যায়। পরবর্তীতে বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময়েও শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গোমূত্র সেবনের নিদান দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, সাধারণ মানুষ বা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা গরুর প্রকৃত মূল্য বুঝতে আসামর্থ।
দাবি বনাম বিজ্ঞান ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে মন্ত্রীর এই অলৌকিক দাবিগুলোর কোনো তাত্ত্বিক বা ব্যবহারিক মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এর আগে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরও একই ধরনের দাবি করে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। দিলীপ ঘোষ শুধু রক্তচাপ কমানোই নয়, বরং গোবরের রোগ নিরাময় ক্ষমতার পক্ষেও নিজের এক আত্মীয়ের ফোলা অংশ ভালো হওয়ার বাস্তব উদাহরণ টেনেছেন। প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দুগ্ধ শিল্পের ব্যবসায়ী এবং গোশালার মালিকদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের ঠিক আগেই প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য প্রশাসনিক গুরুত্বকেও একপ্রকার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন হেভিওয়েট মন্ত্রীর মুখে এই ধরনের বিজ্ঞানহীন অলৌকিক দাওয়াইয়ের পুনরাবৃত্তি যেমন সরকারি নীতির গাম্ভীর্যকে হালকা করে, ঠিক তেমনি বিরোধী শিবিরের কাছে সরকারকে আক্রমণ করার বড় অস্ত্র তুলে দেয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থেকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে এই ধরনের প্রচার সামাজিক স্তরে কুসংস্কার ছড়াতে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করতে ভূমিকা পালন করতে পারে।